প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস সমুন্নত রাখতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেশের উন্নয়নে আমরা অনেক কাজ করেছি। আমাদের আরো অনেকদূর এগিয়ে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমার নির্দেশ হলো, সংগঠনকে শক্তিশালী করুন। মানুষের আস্থা ধরে রাখুন। কী পেলাম আর কী পেলাম না—সে চিন্তা বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শ ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করাই আমাদের লক্ষ্য।
গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে নির্মিত প্যান্ডেলে আওয়ামী লীগের ২১তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে সূচনা বক্তব্যে এবং রেকর্ডসংখ্যক টানা নবমবারের মতো দলের সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা প্যান্ডেলে উপচে-পড়া কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আপনারা যে গুরুদায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন, তা পালন করার চেষ্টা করব। কিন্তু আমার বয়স হয়েছে, আমার বয়স এখন ৭৩। তাই আগামীতে আপনাদের নতুন নেতা খুঁজতে হবে, দলে নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে।’ এ সময় ‘নো নো’ স্লোগান দিয়ে গোটা প্যান্ডেল প্রকম্পিত করে তোলেন সারাদেশ থেকে আসা সাড়ে ৭ হাজার কাউন্সিলর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। দেশের এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা যেন থাকে, সেটাই আমরা চাই। নানা চড়াই-উতরাই, চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র পেরিয়ে আওয়ামী লীগ এখন অনেক শক্তিশালী ও বৃহত্ রাজনৈতিক দল। তাই দলকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সেভাবেই কাজ করতে হবে, যাতে মানুষ যেন আবারও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করে। আমরা যেন জনগণের সেবা করে যেতে পারি। সবাইকে জাতির পিতার আদর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বভাবতই ক্ষমতায় থাকলে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা যায় না। কিন্তু আমরা সেটা করতে পেরেছি, আমরা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি, এই জনপ্রিয়তা আমাদের ধরে রাখতে হবে।
কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটাই লক্ষ্য— বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করা। সেটা আমরা পূরণ করব। দেশকে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। যা দেখে আমার বাবা-মার আত্মা যেন শান্তি পায়। লাখো শহিদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তিনি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলতে হবে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টি এবং বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার নানা ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের পর জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সত্য ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না। জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ইউনেস্কো একসঙ্গে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ও সফলতার চিত্র তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের সামনে উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। জাতির পিতার আদর্শে চলতে হবে দেশকে আরো উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে।
তাকে নবমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত করায় কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাবা-মা, ভাইসহ সবাইকে রেখে আমরা দুবোন বিদেশে গিয়েছিলাম। কিন্তু দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে ফিরে পাইনি। সারাদেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আমার বাবা-মার ভালোবাসা পেয়েছি।
সভানেত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অধিকাংশ পদে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন। এছাড়া সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের নামও ঘোষণা করেন।