মাহমুদুল কবীর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সুতার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের তাঁতমালিক ও কাপড় ব্যবসায়ীরা। এ কারণে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক ও শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। হাটবাজারে তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি, গামছার দামও পাওয়া যাচ্ছে না। উত্পাদন খরচের চেয়ে কাপড়ের দাম কম হওয়ায় অনেক তাঁতমালিক কাপড় তৈরি বন্ধ করে দিচ্ছেন। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত তাঁতশ্রমিক।
সরেজমিনে তাঁতমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে সুতার দাম ছিল ১৫০ টাকা প্রতি পাউন্ড, তার মূল্য বেড়ে প্রতি পাউন্ড ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে তাঁতিদের। সেই সঙ্গে প্রতি পাউন্ড রঙের দাম বেড়ে হয়েছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা হয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে কাপড়ের বাজারে। কিন্তু সেই তুলনায় তাঁতিদের উত্পাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, চৌহালি, বেলকুচি, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, কাজীপুর, রায়গঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ হস্ত ও যন্ত্রচালিত তাঁত কারখানা রয়েছে। সুতায় রং দেওয়া, শুকানো, সুতা তৈরি করা ও কাপড় উত্পাদনের জন্য প্রতি তাঁতের জন্য চার থেকে পাঁচ জন শ্রমিক প্রয়োজন হয়। এতে বিভিন্নভাবে মালিক-শ্রমিক-কর্মচারী ও অন্যরা মিলে লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা এই তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের তাঁতমালিক হাফেজ শাহীন বলেন, বর্তমানে এই গ্রামের ৬০ ভাগ তাঁতি ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণে জর্জরিত।
এদিকে সিরাজগঞ্জ তাঁত বোর্ডের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাঁতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও তাঁতের আধুনিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাঁতমালিকদের ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁতিদের তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। তাঁতিরা যাতে লোকসানের মুখে না পড়ে এ জন্য সরকারিভাবে স্বাবলম্বী করতে ঋণ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। তাঁতিদের সহযোগিতা করতে তাঁতি সমিতি গঠন করা হয়েছে। এই সমিতির মাধ্যমেই তাদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে।