ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন
স্পোর্টস ডেস্ক
লিভারপুল কোচ য়ুর্গেন ক্লপ ‘একের পর এক পরীক্ষায় পাসের’ জন্য তার খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেছেন। দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি সত্ত্বেও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি গত শনিবার রাতে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা তুলে নেয়।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর লিভারপুল হলো দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব যারা এ টুর্নামেন্টটিতে শিরোপা জিতল। ২০০৮ সালে ম্যান ইউ এ সাফল্য দেখিয়েছিল। লিভারপুল অবশ্য ২০০৫ সালে শিরোপার কাছে গিয়েও ফিরে এসেছিল। সেবার তারা ব্রাজিলের ক্লাব সাও পাওলোর কাছে ফাইনালে পেরে ওঠেনি। সর্বশেষ ১৩টি ক্লাব বিশ্বকাপে ১২ বার জিতল ইউরোপিয়রা।
দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে খেলার একমাত্র গোলটি করেন ব্রাজিলীয় ফিরমিনহো। কাতারের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির ১-০ গোলের জয়ে ফিরমিনহো অতিরিক্ত সময়ে দলকে জেতানো গোলটি করেন। ফিরমিনহো অবশ্য খেলার শুরুতেই সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। যেমন বিফলে যায় মোহামেদ সালাহর একটি ভালো সুযোগও।
চলতি মৌসুমে এ নিয়ে দুটি শিরোপা জিতল লিভারপুল। আগস্টে চেলসিকে হারিয়ে ক্লপের দল উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিল।
ক্লপ বলেন, ‘ছেলেরা আবারও লড়াইয়ে নেমেছিল এবং দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখায়। তারা ক্রমাগত পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে, আমাদের জীবনটাই এমন। বর্তমানে আমরা একের পর এক পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন আরো পরীক্ষাতেও পাস করি।’
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী লিভারপুলের জন্য জয়টা খুবই কাজে লাগবে। কেন না তারা এখন ডিসেম্বর মাসের ব্যস্ত সূচিতে আছে। এ কারণেই লিগ কাপে অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে তাদের আলাদা দলকে খেলাতে হয়েছিল। যদিও তরুণদের নিয়ে গড়া দলটি ভিলা পার্কে ৫-০ গোলে হেরে গিয়েছিল।
তার মধ্যেই ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপাটি পেল লিভারপুল। ক্লপ জানান, তার ছেলেরা আরেকটি ফাইনালে এমন দাপুটে নৈপুণ্য দেখানোয় তিনি গর্বিত। জার্মান এই কোচ বলেন, ‘ছেলেদের জন্য নিজের পক্ষ থেকে সম্মান জানাতে যুতসই শব্দ খুঁজে পেতে আমি হিমশিম খাচ্ছি। এটা ছিল অবিশ্বাস্য। আমরা অনেক অনেক ভালো কাজ করেছি।’
এত আনন্দের মধ্যেও লিভারপুলের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয় হলো অ্যালেক্স অক্সলেড-চ্যাম্বারলিনের সম্ভাব্য ইনজুরি। খেলা শেষে তাকে ক্রাচে ভর করে মাঠ ছাড়তে হয়। ক্লপ আশা করছেন এটা অত গুরুতর কিছু হবে না।