নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মান নির্ধারণ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর আরো ২৯ হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মিষ্টির কারখানার মান নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। মান অনুযায়ী ১৩ হোটেল-রেস্তোরাঁ পেয়েছে ‘এ’, ৯টি ‘বি’ এবং ৭টি পেয়েছে ‘সি’ গ্রেডের স্টিকার। এই ২৯টি হোটেলের একটিও ‘উত্তম’ মান অর্থাত্ ‘এ প্লাস’ পায়নি।
গতকাল রবিবার বিজয়নগরের ‘হোটেল-৭১ ’এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে বিভিন্ন গ্রেডের এই স্টিকার দেওয়া হয়। খাবারের মান, বিশুদ্ধতা, পরিবেশ, ডেকোরেশন, মনিটরে রান্নাঘরের পরিবেশ দেখা যাওয়ার ব্যবস্থা ও ওয়েটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁগুলোতে এই চার ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই গ্রেডিং সিস্টেম চালু করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, অতি লোভ সংবরণ করে যদি আমরা আমাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি তাহলে জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাহারা দিয়ে কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, যদি তার বিবেক, মন তাকে পাহারা না দেয়। মন্ত্রী বলেন, যারা ‘এ’ গ্রেড পেলেন আমরা আশা করি, সরকারের দেওয়া এই স্বীকৃতিটুকু তারা ধরে রাখবেন এবং সামনের বছর ‘এ+’ গ্রেড পাবেন।
উল্লেখ্য, রেস্তোরাঁয় সবুজ স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে এখানকার মান এ+ (এ প্লাস) অর্থাত্ উত্তম। কমলা রংয়ের স্টিকার দেখলে বুঝতে হবে এটি অনিরাপদ। কমলা স্টিকারযুক্ত রেস্তোরাঁগুলো এক মাসের মধ্যে রেস্তোরাঁর মান ভালো না করলে বাতিল হবে তাদের লাইসেন্স। ভোক্তা ও ভোজনরসিকদের স্বার্থে ‘এ+’, ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এই চার ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ঢাকা মহানগরীর হোটেল ও রেস্তোরাঁকে।
যারা খাবার খেতে যাবেন, তারা রেস্তোরাঁয় প্রবেশের সময় স্টিকার দেখেই জেনে নিতে পারবেন, এখানকার ভেতরের পরিবেশ পরিস্থিতি কেমন, কিচেনে কী ধরনের দূষণ বা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রয়েছে।
সবুজ রং আর নীল স্টিকারযুক্ত রেস্তোরাঁর মান নিয়ে ক্রেতাদের কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। কিন্তু হলুদ স্টিকারধারী রেস্তোরাঁকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে তাদের মান ও গ্রেড উন্নতির জন্য। একইভাবে কমলা বণের্র রেস্তোরাঁকে গ্রেডিং বাড়ানোর জন্য এক মাস সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা না হলে, হোটেল-রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
অনুষ্ঠানে খাদ্য সচিব মোছাম্মত্ নাজমানারা খানুম বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত গ্রেডিং পদ্ধতি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। আগামীতে দেশের সব রেস্তোরাঁকে এই গ্রেডিংয়ের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এ’ ক্যাটাগরি পাওয়া হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো হলো নর্থ কাফরুলের ভাগ্যকূল মিস্টান্ন ভান্ডার, পল্লবী ইস্টার্ণ হাউজিং, মিরপুরের বনলতা সুইট এন্ড বেকারি, প্রগতি মেরুল বাড্ডার সেঞ্চরী সুইটস্, চন্দ্রিমা উদ্যান, মোহাম্মদপুরের টেকআউট (ফ্যাক্টরি), আবেদীন টাওয়ার বনানীর টেকআউট, খিলগাঁও তালতলার ব্লু মুন রেস্টুরেন্ট, খিলগাঁও তালতলার ভূতের আড্ডা, খিলগাঁও তালতলার ক্যাফে চেরি ড্রপস, শহীদ বাকি রোড খিলগাঁওয়েরমিস্টার বার্গার, খিলগাঁও তালতলার আপন কফি হাউজ, খিলগাঁও তালতলার ক্যাভেন রেস্টুরেন্ট, খিলগাঁও তালতলার গোল্ডেন গেট, খিলগাঁও তালতলার কফি লাইম।
বি ক্যাটাগরি পেয়েছে, চন্দ্রিমা উদ্যান, মোহাম্মদপুরের বিক্রমপুর মিস্টান্ন ভান্ডার, খিলগাঁও তালতলার অলিভারস, শহীদ বাকি রোড খিলগাঁওয়ের ট্রে স্টোরি রুফ টপ, খিলগাঁও তালতলার ট্রাডিশন বিডি, খিলগাঁও তালতলার ক্যাফে অ্যাপিলিয়ানো, খিলগাঁও তালতলার পোপিয়াস কফি, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া খিলগাঁওয়ের কেভিয়ার রেস্টুরেন্ট, খিলগাঁও তালতলার স্পাইস রুট রেস্টুরেন্ট, ধানমন্ডির টেকআউট।
সি ক্যাটাগরি পেয়েছে, হেমায়েতপুর সাভারের বনফুল এন্ড কো:, পূবাইল গাজীপুরের প্রিমিয়াম সুইটস, মধ্যবা্ড্ডা প্রগতির মধুবন, লেকসার্কেল কলাবাগানের বিক্রমপুর মিস্টান্ন ভান্ডার, কাজলার পাড় ডেমরা রোডের রস ফুড এন্ড বেকারি লি:, খিলগাঁও তালতলার বাংকারস ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট, নবীনগর লোহার গেট এলাকার শাহী মিঠাই।