সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর মুগদার মান্ডায় সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে মাহিম রহমান (১৭) হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে তিনজন গতকাল রবিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী থেকে বন্ধু মনার কাছে ঘুরতে এসে মান্ডার বালুর মাঠে বন্ধুর প্রতিপক্ষদের ছুরিকাঘাতে মাহিম খুন হয়।
হত্যার ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা বেগম রোজি আট জনকে আসামি করে মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেন শনিবার। পুলিশ এজাহারভুক্ত সাত জন ও সন্দেহভজন দুই জনকে গ্রেফতার করে। তারা প্রায় সবাই কিশোর। গতকাল এজাহারভুক্ত তিন জন—‘বান্দর’ রাকিব, রাকিবুল ইসলাম ধলু ও ফাহিম ওরফে চাপাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার এসআই মনিবুর রহমান সুজন। তিন জনই হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। কেন, কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছে তারা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর মানিকনগরের একটি স্কুলে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে লাইনে দাঁড়ানোর সময় সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে আসামি বান্দর রাকিবের সঙ্গে মনার দ্বন্দ্ব হয়। এ নিয়ে ঐদিন রাকিব গ্রুপ ও মনা গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পর থেকেই মনাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে রাকিবরা। তবে নিহত মাহিম আসামিদের টার্গেট ছিল না। শুক্রবার বিকালে বন্ধু মনার সঙ্গে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর বাসা থেকে মাহিম মান্ডার বালুর মাঠে আসে। মনা ও মাহিমসহ তিন জন সন্ধ্যায় মাঠে আগুন তাপাচ্ছিল। এ সময় রাকিব, ধলু ও ফাহিমসহ সাত-আট জন তাদের ওপর হামলা চালায়। সামান্য আহত হওয়ার পর মনাসহ দুই জন পালিয়ে যায়। মাহিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে ফাহিম। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল রাকিব, ধলু ও ফাহিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি ছয় জনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজ তাদের আদালতে পাঠানো হতে পারে।