প্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ শুভাশিস রইল। অল্প কিছুদিন পর পরীক্ষা। তোমাদের সুবিধার্থে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ২য়পত্র হতে একটি উদ্দীপক এবং উদ্দীপকের আলোকে উত্তর প্রদান করা হলো। আশা করি তা তোমাদের সংগ্রহে থাকবে।
উদ্দীপক: জনাব জামাল হোসেন ইসকান্দার Big Bangla Industries (Pvt.)Ltd এর ব্যবস্থাপক। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে তিনি দিন-রাত এবং যথাসাধ্য কাজ নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন। প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে জনাব জামাল কর্মীদের মতামতের গুরুত্ব দেন। জনাব সিয়াম অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভালো-মন্দ বিবেচনার চাইতে তাদের থেকে কাজ আদায়কে অধিক গুরুত্ব দেন।
ক) আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কী?
খ) লাগামহীন নেতৃত্ব কার্যকর হয় না-ব্যাখ্যা কর?
গ) উপরের উদ্দীপকে মি: জামালের প্রতিষ্ঠানে কোন ধরণের নেতৃত্ব কার্যকর? আলোচনা কর।
ঘ) উদ্দীপকে সিয়াম দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে যে নেতৃত্ব দিয়েছেন তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর: একটি প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামোতে নেতার অন্তর্ভূক্তির ভিত্তিতে সংগঠন কাঠামোর পদমর্যাদা হতে আনুষ্ঠানিকতার বিচারে যে নেতৃত্বের সৃষ্টি হয় তাকে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বলে।
উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর: যে নেতৃত্বে নেতা সুনির্দিষ্টভাবে আদেশ-নির্দেশ দেয় না এবং কর্মীরা নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করে তাকে লাগামহীন নেতৃত্ব বলে।
এই ধরণের নেতৃত্বে নেতা কর্মীদের উপর দায়িত্ব দিয়ে নিজে কর্মবিমুখ থাকেন। নেতার দায়িত্ব হলো কর্মীদের কর্মে উত্সাহ ও উদ্দীপনা দিয়ে কার্য আদায় করে নেয়া। নেতা যদি কর্মবিমুখ থাকেন তবে কর্মীরা নিজের ইচ্ছেমত কাজ করেন, ফলে কর্মে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, প্রকারান্তরে কর্মীরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেন। এই ধরণের অনুবিধান কারণে মুক্ত বা লাগানহীন নেতৃত্ব কার্যকর হতে পারে না।
উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর: উপরের উদ্দীপকে মি: জামালের প্রতিষ্ঠানে যে ধরণের নেতৃত্ব কার্যকর তা হলো গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব।
যে নেতৃত্বে নেতা সর্ব কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা নিজের কাছে কেন্দ্রীভূত না রেখে সদস্য বা কর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা ও পরামর্শ করে কার্য পরিচালনা করেন তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে। এই ধরণের নেতৃত্ব পরামর্শমূলক নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উপরের উদ্দীপকে জনাব জামাল হোসেন ইসকান্দার Big Bangla Industries (Pvt.)Ltd এর ব্যবস্থাপক। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে তিনি দিন-রাত এবং যথাসাধ্য কাজ করা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে জনাব জামাল কর্মীদের মতামতের গুরুত্ব দেন। মতামতের গুরুত্ব দেয়া মানে হলো সদস্য বা কর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা ও পরামর্শ করে কার্য পরিচলনা করেন। ফলে কর্মীরা কার্য পরিচালনায় সন্তুষ্ট থাকেন। এতে কর্মীদের মনে স্বত:স্ফূর্ততা বজায় তাকে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন বলে এই ধরণের নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বলে।
উদ্দীপকে ঘ নং প্রশ্নর উত্তর: উদ্দীপকে সিয়ামের দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে যে নেতৃত্ব তুলে ধরা হয়েছে তা হলো কর্মকেন্দ্রীক নেতৃত্ব।
যে নেতৃত্বে নেতা কর্মীর চেয়ে কর্মীর কাজকে বেশি প্রাধান্য দেয় তাকে কর্মকেন্দ্রীক নেতৃত্বে বলে। এরূপ নেতৃত্বে নেতা কাজ সম্পাদনকেই মূল বিষয় মনে করেন,কর্মীদের সুযোগ সুবিধা নয়।
জনাব সিয়াম প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভালো-মন্দ বিবেচনার চাইতে তাদের থেকে কাজ আদায়কে অধিক গুরুত্ব দেন। এই ধরণের নেতৃত্বে নেতা সব সময় কর্মীদের কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন এবং সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজ আদায়কেই সাফল্য মনে করেন। তাই জনাব সিয়ামের নেতৃত্বকে কর্মকেন্দ্রীক নেতৃত্ব বলা যায়। এ নেতৃত্বে অনেক সময় অধিক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কার্য আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে কর্মকেন্দ্রীক এবং কর্মীকেন্দ্রীক দুই ধরনের নেতৃত্ব রয়েছে। একটিতে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কার্য আদায়ের চেষ্টা করা হয় অন্যটিতে কর্মীদের ভালো-মন্দ, উত্সাহ-আগ্রহ বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বর্তমান প্রতিযোগীতামূলক ব্যবসায় জগতে উত্পাদন বৃদ্ধিতে নানা ধরণের প্রচেষ্টা চালানো হয়। আর এই ধরনের প্রচেষ্টায় কর্মকেন্দ্রীক নেতৃত্বে দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।