গণিত পরামর্শ
আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় গণিত/উচ্চতর গণিত বিষয়ে কীভাবে ভালো ফলাফল করতে পারবে তা নিয়ে আলোচনা করব।
তোমরা অনেকেই গণিত বিষয়ের নাম শুনেই ভয় পাও । আসলে ভয়ের মানসিকতা নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারবে না । তাই তোমাদেরকে অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় গণিতের ভয়কেও জয় করতে হবে । আমরা অনেক কিছুই পারি না , তাই বলে থেমে থাকা চলবে না । আমাদেরকে আমাদের মতো চেষ্টা করতে হবে । আর আমরা যদি মন দিয়ে চেষ্টা করি , তাহলে সফলতা আসবেই । শুধু লেখা-পড়া ভালো পারলেই হয় না । পাশাপাশি তোমাকে নীতি নৈতিকতা নিয়েও বড় হতে হবে । বড় হয়ে তোমাকে মা-বাবা ও অন্যান্য সবার কল্যাণকর কাজের জন্য নিজেকে নিয়োগ করতে হবে । মনে রাখবে শুধু নিজেকে নিয়ে সুখে থাকা যায় না । ভালো থাকতে হলে সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয় ।
এবার আসি পড়া-লেখার কথায়-আমি মনে করি একটু মনোযোগী হলেই এবং সামনের সময়টাতে মোবাইল ও টিভি এই দুটি ডিভাইস ব্যবহার একেবারেই বাদ দিয়ে পড়াশোনা করলে ভালো ফলাফল করতে পারবে।
গণিত বিষয়ের প্রতি তোমাদেরকে কিছুটা বেশি সময় ব্যয় করতে হয় । কেননা সবাই একভাবে বোঝতে পারো না । তাই তোমরা বেশি বেশি চর্চা করবে । আর চর্চা করার সময় নিচের পাঠগুলোর প্রতি একটু বেশি নজর দিতে হবে।
গণিত বিষয়ে কীভাবে ভালো ফলাফল করা যাবে-
অনু-৩.১ ও ৩.২ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকবে আশা করি। তারপর অনু-১৩.১ ও ১৩.২ থেকে ১টি অনু-১১.১ ও ১১.২ থেকে ১টি অথবা অনু-২.১ ও ২.২ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকতে পারে। অতিরিক্ত হিসেবে অনু-৪.১ এবং ৪.২টা ও একটু দেখে নিও, কেমন! বীজগণিত থেকে এই অধ্যায়গুলোই ভালোভাবে অনুশীলন করবে। জ্যামিতি থেকে অধ্যায়-৬, ৭, ৮ এই তিন অধ্যায় থেকে ৩টি প্রশ্ন থাকবেই। এই অধ্যায়গুলোও ভালোভাবে অনুশীলন করবে। ত্রিকোণমিতি থেকে অনু-৯.১ ও ৯.২ থেকে ১টি এবং অনু-১০ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। আর পরিমিতি থেকে অনু-১৬. ২ ও ১৬.৪ থেকে ১টি এবং পরিসংখ্যান অংশ থেকে অনু-১৭ থেকে গড়, মধ্যক ও প্রচুরক থেকে ১টি এবং আয়তলেখ,গণসংখ্যা বহুভুজ ও অজিভ রেখা থেকে ১টি প্রশ্ন থাকে , তাই ভালো করে চর্চা করে নিও।
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, এঅধ্যায়গুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে গণিত বিষয়ে অবশ্যই ভো্লা ফলাফল করতে পারবেই । আর বহুনির্বাচনীর জন্য মূলবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় ভালোভাবে রিডিং পড়বে, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানবে, সূত্রগুলো ভালোভাবে মুখস্ত করবে। তাহলেই গণিত বিষয়ে অবশ্যই আশানুরূপ ফলাফল করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বন্ধুরা, তোমরা যারা গণিত অপেক্ষাকৃত কম বোঝ, তারা গণিতে-মান নির্ণয় (অনু-৩.১ ও ৩.২), ধারা (অনু-১৩.১ও১৩.২), ত্রিকোণমিতি (অনু-৯.১ও৯.২ অথবা ১০), এবং পরিসংখ্যান (অনু-১৭) এই অধায়গুলো বারবার ভালোভাবে অনুশীলন করো । তাহলে আর অকৃতকার্য হওয়ার ভয় থাকবে না বলে আমি মনে করি।
বন্ধুরা, তোমরা যারা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছো ,তারা উচ্চতর গণিতের জন্য নিচের অধ্যায়গুলো মনোযোগ দিয়ে চর্চা করলে, পরীক্ষায় সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে বলে আশা করি ।
উচ্চতর গণিত বিষয়ে কীভাবে ভালো ফলাফল করা যাবে-
অনু-২ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকবে বলে আশা করি। তারপর অনু-১০.১ ও ১০.২ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকবে, এছাড়া অনু-৭/৯.১ও৯.২ থেকে ১টি অথবা অনু-১.১ ও ১.২ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকবে । জ্যামিতি থেকে অ্যাপোলোনিয়াস/টলেমি/ব্রহ্মগুপ্তের উপপাদ্য থেকে ১টি প্রশ্ন থাকে, স্থানাঙ্ক জ্যামিতি থেকে অনু-১১.২, ১১.৩ও ১১.৪ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকবে। ভেক্টর জ্যামিতি থেকে অনু-১২ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকবে, ত্রিকোণমিতি থেকে অনু-৮.২ ও ৮.৩ থেকে ১টি এবং সম্ভাবনা থেকে অনু-১৪ থেকে ১টি প্রশ্ন ্নথাকবে। তাই এই অধ্যায়গুলোই ভালোভাবে অনুশীলন করবে। আর বহুনির্বাচনীর জন্য মূলবইয়ের প্রতিটি অধ্যায় ভালোভাবে রিডিং পড়বে, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানবে, সূত্রগুলো ভালভাবে মুখস্ত করবে। তাহলেই উচ্চতর গণিত বিষয়েও অবশ্যই আশানুরূপ ফলাফল করতে পারবে ।
কথায় আছে- “Practice makes a man perfect.” তুমি যত বেশি অনুশীলন করবে তত বেশি নিখুঁতভাবে করতে পারবে। So you should more more practice. Practice, practice and practice.