বঙ্গোপসাগরের পাশেই নান্দনিক মেরিন ড্রাইভের পশ্চিমে কৃষি জমিতে ছোটো ছোটো কাঁচাঘর করে বসবাস করছেন বেশ কয়েকটি পরিবার। বাঁশের চাঙ্গা ও লম্বালম্বি বাঁশের ফ্রেম করে শুঁটকি শুকাতে দেখা গেছে তাদের। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত সাগর উপকূলে বসবাস করে শুঁটকি উত্পাদন ও বাজারজাত করে জীবনযাপন করে থাকেন তারা। যে কারণে অনেকেই এটাকে শুঁটকি পল্লি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দেখা গেছে, পানি ভর্তি ড্রামের মধ্যে লবণ মিশিয়ে তারা এসব গুলিয়ে নেন। তারপর উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন ফিশিং বোর্ড থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঐ লবণপানিতে বেশ কয়েকবার চুবিয়ে চাটাইতে শুকানোর জন্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখেন। এদের মধ্যে কথা হয় আছিয়া খাতুন (৫৫) নামের এক মহিলার সঙ্গে। তিনি জানান, তার স্বামী মহিবুল্লার ফিশিং বোটের মাঝি হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত্ সমুদ্রে মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করে আসছিলেন। তিনি সমুদ্র থেকে তীরে নোঙর করার পর উন্নতজাতের মাছগুলো ফিশিং বোটের মালিকপক্ষ বিক্রি করে তাদের প্রাপ্য মজুরি দিয়ে দেন। ঐ মজুরির টাকা দিয়ে সে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে আসলে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন। তিনি জানান, এখন চলছে শুঁটকি শুকানোর মৌসুম। আর কয়দিন পর ব্যবসায়ীরা এখানে এসে পাইকারি দরে এসব শুঁটকি কিনে নিয়ে যাবেন।
পাশেই আরেকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে লম্বা করে মাচাং বানানো হয়েছে। শুকানো হচ্ছে ছুরি মাছ। ইমাম হোছন জানান, তিনি আগে সাগরে মাছ ধরতেন। একদিন নৌকাডুবিতে তার নৌকার পাঁচ জন মাঝিমাল্লা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তিনি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান না। সে থেকে মাছ শুকিয়ে তা বিক্রি করে জীবনধারণ করে থাকেন।
জুলেখা বেগম নামের এক নারী জানান, এগুলো তারা যেখানে সামুদ্রিক মাছ লেনদেন হয়, সেখান থেকে কুড়িয়ে এনে শুকাতে দিয়েছেন। রোদে শুকিয়ে শুঁটকিতে পরিণত করবেন। এগুলো কেজিতে ১৫০ টাকা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকাররা নিয়ে যায়।
এলাকার একজন মত্স্য ব্যাপারি হিসেবে পরিচিত সাগর মাঝি (৫৫) জানান, প্রতি মৌসুমে উপকূলে বিশেষ করে কক্সবাজার অঞ্চলভিত্তিক খুচরা বিক্রেতারা এসব শুঁটকি সংগ্রহের জন্য এখানে ভিড় করে থাকেন। তিনি জানান, শুঁটকি উত্পাদনের মধ্যে উপকূলের হাজারের অধিক পরিবার তাদের জীবন-জীবিকা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারিভাবে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে উদ্যোগ নেওয়া হলে এখানকার শুঁটকি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব ছিল।