চেলসির কোচ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড তার একসময়ের গুরু হোসে মরিনহোর টটেনহ্যাম হটস্পারকে ২-০ গোলে হারিয়েছেন। আগের খেলায় এভার্টনের কাছে হারের পর উইলিয়ানের জোড়া গোলে জয়ে ফিরল চেলসি।
সম্প্রতি টটেনহ্যামের দায়িত্ব নেওয়া মরিনহোর এটি হলো নিজ মাঠে প্রথম হার। খেলা শেষে তিনি অবশ্য জানান, তার সাবেক ক্লাব শ্রেয়তর দল হিসেবেই জিতেছে। কোচ মরিচিও পচেত্তিনোর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ছয় খেলার দুটিতে হারলেন তিনি। দুটিই মরিনহোর সাবেক ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে। অপরটি ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে।
মরিনহো তার সাবেক ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে এর আগে কখনো নিজ মাঠে হারেননি। বরং ১২টিতে জিতেছিলেন এবং অপর একটি ড্র হয়েছিল। কিন্তু গত রবিবার রাতে তার সাবেক মিডফিল্ডার ল্যাম্পার্ড পুরোপুরি পরাস্ত করেন তার গুরুকে। অথচ এই খেলায় জিতলে টটেনহ্যাম পয়েন্ট টেবিলে চেলসিকে হটিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে আসতে পারত।
কিন্তু রক্ষণভাগের ভুলেই ১২তম মিনিটে উইলিয়ান গোলের সূচনা করেন। এরপর গোলরক্ষক পাওলো গাজ্জানিগার মাথা গরম করে খেলার কারণে চেলসিকে পেনাল্টি উপহার দেয় স্বাগতিকেরা। তাতে বিরতির আগেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা এবং তা ধরে রাখে ল্যাম্পার্ডের দল।
এরপর ৬২ মিনিটে সং হিউং-মিন বিপক্ষের খেলোয়াড়কে লাথি মেরে লাল কার্ড পেয়ে মাঠছাড়া হন। ফলে শেষ ৩০ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া টটেনহ্যামের আর সমতা ফেরানোর সুযোগ ছিল না।
এই হারে চেলসির চাইতে ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে টটেনহ্যাম গড়িয়ে গেল সপ্তম স্থানে। নতুন বছরে দ্রুত ঘুরে না দাঁড়ালে মরিনহোকে ঘিরে যে আশাবাদ দেখা দিয়েছিল, তা মিইয়ে যেতে পারে। মরিনহো অবশ্য পরাজয়ের কারণ হিসেবে বলেছেন, ‘প্রথমার্ধে তারা আমাদের চাইতে শ্রেয়তর ছিল, এটা স্বীকার করা আমার জন্য কঠিন কিছু নয়। তারা এমন একটা কৌশলে খেলেছে, যাতে তারা অভ্যস্ত। এই কৌশলে তারা আন্তুনিও কন্তের (সাবেক কোচ) অধীনে দুই বছর ধরে খেলছে। তাদের অনেক খেলোয়াড়ই এই কৌশলে অভ্যস্ত।’
ল্যাম্পার্ড খেলা শেষে বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক কিছু। তবে এটা ক্লাব ও সমর্থকদের ব্যাপারও। অনেকগুলো হারের পর সমর্থকেরা এখানে খেলা দেখতে এসেছিল এবং তারা আমাদের ভালোভাবেই সমর্থন দেয়। তারা জানে আমাদের দলটি তরুণ এবং আমরা কী অর্জন করতে যাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়েরা দেখিয়েছে তারা লড়াই করতে জানে এবং শীর্ষ দলের বিরুদ্ধে খেলছিল। কারণ টটেনহ্যাম ভালো একটি দল। আজ আমাদের সবকিছুই ছিল এবং সেজন্যই আমাদের উদ্যাপন করা উচিত। আমরা উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছি না। তবে নৈপুণ্যের জন্য আমরা সন্তুষ্ট।’
উল্লেখ্য, এটি হলো ২০০৮ সালের জানুয়ারির পর সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় জয়।