আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স হচ্ছে বসুন্ধরায়

অত্যাধুনিক এক ক্রীড়া কেন্দ্র গড়ে উঠছে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। উদ্যোক্তা বসুন্ধরা গ্রুপ আশা করছে আগামী মৌসুমেই তাদের ফুটবল দল বসুন্ধরা কিংস নীলফামারির শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থেকে এখানে নিয়ে আসা হবে।

অভিষেক মৌসুমেই পেশাদার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছে বসুন্ধরা কিংস। দলটি এখন নিজস্ব ভেন্যুতে খেলার দিক থেকেও নজির গড়তে চলেছে। কেননা পেশাদার লিগের কোনো ক্লাবেরই ঢাকায় নিজস্ব মাঠে খেলার ব্যবস্থা নেই।

বসুন্ধরা গ্রুপ ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট ও হকির জন্য আলাদা স্টেডিয়াম বানাচ্ছে, আরো থাকবে বাস্কেটবল, ভলিবল, কাবাডি, শুটিং, আরচারি, গলফ রেঞ্জ, সুইমিংপুল ও জিমন্যাশিয়াম। মূলত বেসরকারি উদ্যোগে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ক্রীড়া কমপ্লেক্স হওয়াটাই তাদের লক্ষ্য বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, এই উদ্যোগ বদলে দেবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে।

মাত্র কয়েক মাস আগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘এন’ ব্লকে ২০০ বিঘা জায়গার ওপর ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সের কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে উন্নতমানের ড্রেনেজ সিস্টেমসহ ১০ হাজার আসনের ফুটবল স্টেডিয়ামের কাজ শেষ পর্যায়ে। মাঠটিতে এরই মধ্যে কয়েকটি প্রীতিম্যাচও খেলেছে বসুন্ধরা কিংস। দলটি ঘরোয়া লিগে সাফল্যের পর এখন ক্লাব পর্যায়ে এশিয়াতেও নজর কাড়তে চায় বলে জানিয়েছেন কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান দাবি করেছেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ এর কাজ শেষ হবে। ভবিষ্যতে একে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ব্যবহারের আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন কিংস সভাপতি।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান নিজেও এক সময় হকি খেলতেন। তার বড়ো ভাই আবদুস সাদেকও সাবেক তারকা খেলোয়াড়। এটা বড়ো ভূমিকা রেখেছে। ফুটবল ও ক্রিকেটে দল গড়ার আগে থেকেই গ্রুপটি শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত আছে।

কমপ্লেক্সের পরিকল্পনায় ১৫ হাজার দর্শকের গ্যালারিসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট স্টেডিয়ামও থাকছে। এতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সব সুবিধা থাকবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। অনুশীলন মাঠের পাশাপাশি আলাদা নেট প্র্যাকটিসের ব্যবস্থাও থাকবে সেখানে।

উত্তর ও দক্ষিণ দুটি অঞ্চলে বিভক্ত এই কমপ্লেক্সে একটি ফুটসাল কোর্ট এবং ইনডোর গেমস ও আট লেনের ৫০ মিটার ও ছয় লেনের ২৫ মিটারের দুটি সুইমিং পুল থাকবে। দক্ষিণ অঞ্চলে থাকবে একাডেমি এবং ক্লাব বিল্ডিং, যেখানে ডরমেটরিতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের আবাসনের সুব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া এখানে আর্টিফিশিয়াল টার্ফে খেলা হবে হকি, থাকবে টেনিস কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট, ভলিবল কোর্ট, স্কোয়াশ কোর্ট, মাল্টিপারপাস স্পোর্টস কোর্ট, কাবাডি কোর্ট। ৯০ মিটারের একটি আরচারি রেঞ্জের পাশাপাশি থাকবে একটি শুটিং রেঞ্জ। এতে ৫০, ২৫ ও ১০ মিটার রেঞ্জে অনুশীলন করতে পারবেন শুটাররা। অনেকগুলো ভেন্যুতে থাকবে ব্রডকাস্ট কোয়ালিটির ফ্লাডলাইট।