আগামী বছরের শুরুতে পাকিস্তান সফরে টেস্ট ও টি-২০ খেলার কথা বাংলাদেশ দলের। সফরসূচি চূড়ান্ত না হলেও বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে শুধু তিনটি টি-২০ খেলেই ফিরতে চায় সফরকারীরা। আর টেস্ট সিরিজ হোক নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলতে চায় না বাংলাদেশ।
তবে নিজেদের অবস্থান অনড় রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দেশের বাইরে হোম সিরিজ খেলবে না পাকিস্তান। পিসিবির সভাপতি এহসান মানি গতকাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশের বাইরে হোম সিরিজ খেলার সময় শেষ হয়েছে পাকিস্তানের। বাংলাদেশ বা প্রতিপক্ষ যেই হোক, পাকিস্তানের হোম সিরিজ পাকিস্তানেই খেলতে হবে। তিনি আশাবাদী পাকিস্তান সফরে দল পাঠাবে বিসিবি। বাংলাদেশের পাকিস্তানে না আসার কোনো কারণই খুঁজে পান না পিসিবি সভাপতি।
এহসান মানি গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘পাকিস্তানের হোম টেস্ট কোথায় হবে তা নিয়ে কারো ভ্রান্ত ধারণা ঠিক নয়। পাকিস্তানের সব ম্যাচ বাংলাদেশ বা যে কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানেই হবে। আমি এখনো আশা করি বিসিবি বিষয়টি ভেবে দেখবে। এবং তাদের পাকিস্তান সফরে না আসার কোনো কারণ নেই তা মেনে নেবে।’
পাকিস্তান যে অনিরাপদ তা প্রমাণ করতে হবে বিসিবিকে, এমনটাই বলছেন এহসান মানি। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে পাকিস্তান অনিরাপদ। আমরা মনে করি এখানে সবকিছু নিরাপদ। আমরা বিশ্বকে এটা দেখিয়েছি।’ বিসিবির সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট না খেলার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে হতাশ পাকিস্তানের বর্তমান হেড কোচ, প্রধান নির্বাচক মিসবাহ উল হক ও টেস্ট দলের অধিনায়ক আজহার আলী। মিসবাহর মতে, বাংলাদেশ যদি টেস্ট না খেলে তবে পাকিস্তানের প্রতি অবিচার হবে। আর এই সিদ্ধান্তে অখুশি আজহার আলী বলেছেন, এশিয়ার দলগুলোর উচিত পরস্পরকে সহযোগিতা করা।
গতকাল পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরা খুব কম টেস্ট খেলি। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশও অনেক টেস্ট খেলে না। তাই আমাদের উচিত পরস্পরকে সহযোগিতা করা। আমি আইসিসিকে এগিয়ে আসতে বলব কারণ না আসার কোনো যুক্তি নেই। সবকিছু শান্তভাবে চলছে, দর্শকরা আসছে। সবকিছু ঠিকভাবে হচ্ছে এবং আমরা মানসম্পন্ন ক্রিকেট দেখছি, তাই আমি মনে করি এখানে কোনো অজুহাত থাকতে পারে না।’
আজহার আলী বলেন, ‘এশিয়াতে যদি আমরা একে ওপরকে সমর্থন না করি, এশিয়ার বোর্ডগুলো যদি পরস্পরকে সমর্থন না করে, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’
করাচিতে গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৩ রানে টেস্ট জয়ের পর এই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন মিসবাহ। পাকিস্তানের এই সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘তাদের প্রত্যাখ্যান (টেস্ট খেলতে রাজি না হওয়া), আমি বুঝতেই পারছি না। আমি কোনো যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছি না তাদের শুধু টি-২০ খেলতে আসার বিষয়টি কিন্তু টেস্ট ম্যাচ নয়। এটা পাকিস্তানের প্রতি অবিচার।’
টি-২০ খেলতে চাইলেও দুটি টেস্ট নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে চায় বাংলাদেশ। টেস্ট না খেলতে চাওয়ার পেছনে বিসিবির যুক্তিকে খোঁড়া বলে মনে করেন মিসবাহ। তিনি বলেছেন, আগামী বছর জানুয়ারিতে বাংলাদেশ না আসলে, এটি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্য খুবই হতাশাজনক হবে।
যদি বাংলাদেশ না আসে টেস্ট খেলতে, তবে পাকিস্তানের পরের টেস্ট সিরিজ ২০২০ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের মাটিতে।