হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী -------------ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার সঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘ভিন্ন মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে, ডাকসুর ভিপি আমাদের সমালোচনা করতে পারে, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার তার আছে। এখানে অন্যান্য যে বহিরাগতরা আসে এসব কথা অনেকে বলে, যত কিছুই হোক, যে হামলা হয়েছে এটা নিন্দনীয় ঘটনা, আমি এটার নিন্দা করি।’

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নেত্রী সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত            তারা যদি দলীয় পরিচয়ের কেউও হয়, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বলা হয়েছে।’ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম রবিবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই নুরদের চিকিত্সার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঐ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা এই অপকর্ম করে থাকুক, এভাবে প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলা, এর বিচার হওয়া উচিত। আমরা আমাদের পার্টির পক্ষ থেকেও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

হামলায় ছাত্রলীগ নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের একজনের কথা শুনেছি, ছাত্রলীগ তাকে আগেই বহিষ্কার করেছে অপকর্মের জন্য।’ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যাই হোক, অপকর্মকারীকে অপকর্মকারী হিসেবেই দেখব, কোনো প্রকার ছাড় দেয়ার প্রশ্ন ওঠে না।’ রবিবারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ নুরের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার বিব্রত কি না—এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এ ধরনের ঘটনায় সরকারে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে সরকার কীভাবে দেখছে এটাও দেখার বিষয়। কোনো ঘটনায় সরকার নিবৃত থাকেনি, ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল একটি বিশাল পার্টি। এখানে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটায়। বিষয়গুলো খুব সিরিয়াসভাবে দেখা হচ্ছে।

ছাত্রলীগের বারবার খারাপ খবরের শিরোনাম হওয়া নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মাঝে মাঝে এগুলো হয়, এখানে আবার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে নামে একটি প্রতিষ্ঠান— সেটা তো সরাসরি আমাদের দলের সঙ্গে জড়িত নয়, সেখানে মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চেরও কেউ কেউ জড়িত।’

রাস্তার দুর্দশা নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ কাজে ধুলা ওড়াটাই স্বাভাবিক। সড়কের কাজের মান নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে গত ১৯ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে নিজের এলাকায় যেতে লজ্জা লাগে। সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য লজ্জায় গাড়ির গ্লাস তুলে রাখতে হয়, নামানো যায় না।’ এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি উনাকে বলেছি, এটা হলো ভুল বোঝাবুঝি। ঐ রাস্তাটি ফোরলেইন হচ্ছে। কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কে তো ধুলোবালি উড়বেই, এটা হলো বাস্তবতা। সেটা হয়তো উনি বাড়ি যেতে বারবার বিরক্ত হচ্ছেন। কিন্তু ঢাকা থেকে তো উনি (অর্থমন্ত্রী) কুমিল্লা পর্যন্ত ভালোভাবেই যাচ্ছেন লাকসাম রোড পর্যন্ত। আন্ডার কন্সট্রাকশন রোডে যা হয়, সেটা সেখানেও ঘটেছে। ’

নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করতে গিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছিল, সে সময় কিছু লোক ভারতে অভিবাসী হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলছেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটি কি অসত্য? ২০০১ সাল থেকে যে মাইনরিটি পারসিকিউশন এদেশে হয়েছে, এটা কেবল একাত্তরের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা হয়। কাজেই এখানে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কোনো উপায় নাই।’

একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী ভারতে বলেছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে বাংলাদেশ থেকে কোনো সময় লোক গেছে, তাদের ফেরত আনা হবে। এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফেরত আনার যদি প্রয়োজন হয় তাহলে এখন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মাইনরিটি পারসিকিউশনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে অঞ্চলভিত্তিক দুই চার জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেটা মাইনরিটি দেশ থেকে পলায়নের মতো বা দেশ থেকে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার জন্য ভারতে যাওয়ার কারণ সৃষ্টি করেনি। তারা ফিরে আসতে চাইলে আনা হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা আসতে চাইলে আমরা ফিরিয়ে নেব।’