বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বিজয়ের মাসে তারুণ্যের ভাবনা

চলছে বিজয়ের মাস। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করা হয়। বাঙালি জাতি এ বিজয়

অর্জন করেছে অনেক ত্যাগ, সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে এবং বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রটি গঠিত হয়েছে। তবে যে দেশপ্রেম নিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষেরা দেশকে স্বাধীন করেছিল সেই দেশপ্রেম কি এই বর্তমান যুগের তরুণদের মধ্যে রয়েছে? আর থাকলেও তা কতটুকুইবা রয়েছে? আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমিতে রয়েছে সাফল্যের অনেক সম্ভাবনা। আর এ সম্ভাবনাকে সম্ভব করতে পারে তারুণ্যের

শক্তি। বিজয়ের মাসে দেশকে নিয়ে কী ভাবছেন তরুণরা? দেশের কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়

পড়ুয়া তরুণদের ভাবনা জানার চেষ্টা করেছেন— হাবিবুর রনি

দেশীয় সংস্কৃতিকে

বিশ্ব দরবারে তুলে

ধরতে হবে

 

সিন্ধু-সম রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হলো—বহুল প্রত্যাশিত বিজয় ও স্বাধীনতা। বিশ্বের বুকে উদিত হলো সবুজ এক দেশ বাংলাদেশ। পেলাম একটি স্বাধীন লাল-সবুজের পতাকা। সারাবিশ্বকে জানিয়ে দিলাম মোরা এক অনন্য জাতি। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছর হয়ে গেল, এখনো বিজয়ের ধ্বনি দেশের মানুষের কান পর্যন্ত পৌঁছাল না। কৃষক তার ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত, নারীরা স্বাধীনভাবে চলাচলে বঞ্চিত, কোথাও তারা ধর্ষিত। সাংবাদিকরা সত্য সংবাদ প্রকাশে বাধাপ্রাপ্ত অন্যথায় তারা বাজেয়াপ্ত। এই বিজয় দিবস আমাদের জীবনে বারবার আসতে থাকে আমাদের স্মরিয়ে দিতে। আমরা তাকে অনুভব করি বেশ আনন্দ উল্লাসের সঙ্গে। বিজয় আমাদের হূদয়ে বাজায় আনন্দের বীণা। কিন্তু বোঝাতে পারে না বিজয়ের ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য।

ইমরান খান

শিক্ষার্থী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

 

চাই দেশ থেকে অশুভ শক্তির বিনাশ

 

১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয়ের প্রভাত সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে উঠেছিল বাংলাদেশের শিশির ভেজা মাটি। অবসান হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সাড়ে তেইশ বছরের নির্বিচার, শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের কালো অধ্যায়। পাকিস্তানি সৈন্য ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল এই মাহেন্দ্রক্ষণ। আনন্দ হলো মানুষের আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত বিজয় হওয়া আর বেদনার হলো বিজয় আনতে গিয়ে মা হারিয়েছে তার সন্তানকে, সন্তান হারিয়েছে তার মাকে, বোন হারিয়েছে ভাইকে, স্ত্রী হারিয়েছে স্বামীকে। তবু এ হারানো বেদনাতুর গণমানুষের জন্য সান্ত্বনা হলো—একটি স্বাধীন দেশ ও একটি জাতীয় পতাকা। তাই কি চেয়েছি কিংবা কি পাইনি সেগুলো ভুলে আমরা চাই শান্তি, নিরাপত্তা, সচ্ছলতা নিয়ে বেঁচে থাকতে। চাই দেশ থেকে অশুভ শক্তির বিনাশ করে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রাচীর গড়ে তুলতে।

নুজহাত মুনতাহেনা

শিক্ষার্থী, এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ

দেশপ্রেমের প্রথম

ধাপ নিজ দেশকে

সম্মান করা

 

প্রতিনিয়ত আমরা উঠতে বসতে, মনের অজান্তেই আমাদের দেশকে ছোটো করছি, করছি পতাকার অপমান। এখনো অনেককে দেখা যায় জুতো পায়ে শহিদ মিনারে সেলফি তুলতে। সবাই যে করে তা নয়। তবে বেশির ভাগ মানুষই তা করে। এর কারণ হলো—আমাদের অবহেলা ও সঠিক জ্ঞানের অভাব। কিন্তু আর কত, এই সব বন্ধ হওয়া দরকার। যে জাতি তার পতাকাকে সম্মান দিতে জানে না, সেই জাতির উন্নতি অসম্ভব। দেশপ্রেমের প্রথম ধাপ  হিসেবে নিজের দেশকে সম্মান করি ও ভালোবাসি, দেশটাকে আপন করে                নেই। আর এ সবকিছুই পরিবর্তন করতে পারে আমাদের দেশের তরুণেরা। আমাদের বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা তারুণ্যের উত্স। আজকের তরুণ হিসেবে স্বাধীনতার জন্য আমার পূর্ব পুরুষের সংগ্রাম দেখি নি কিন্তু অনুভবে বাঁধতে পেরেছি তাদের।

মো. ফরহাদ ইসলাম

শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে

 

৩০ লাখ শহিদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে  নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের সকল জনপ্রতিনিধিদের শাসক নয়, জনগণের খেদমতকারী হিসেবে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে যারা প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন তাদেরকে অবশ্যই জনগণের নিকট সত্ ও  জবাবদিহিতা থাকতে হবে। তাছাড়া তাদেরকে শিক্ষিত, দক্ষ, যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। কারণ, সমাজের নেতৃত্ব যদি অসত্, অযোগ্য, অশিক্ষিত লোকের হাতে থাকে, সেখানে কখনোই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাজে দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। যদি এসব বিষয়কে খেয়াল রেখে এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলেই দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব হবে।

অনিক আহমেদ

শিক্ষার্থী, গণবিশ্ববিদ্যালয়।