চেহারা ও চুলে রঙ মেখে মঞ্চে উঠবো

এদেশের নাট্যাঙ্গনের গুণী মানুষ মাসুম রেজা। যার সুনিপুণ গল্পে গাঁথুনিতে নির্মিত হয়েছে নাটক ও সিনেমা। তবে মঞ্চের মানুষ হিসেবেই তার ব্যাপ্তিটা আরো বড়। পৌষ মাসের আজকের এই দিনে কুষ্টিয়া শহরের পুরাতন কাটাইখানা মোড় এলাকায় জন্ম নেন এই মানুষটি। জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন আনিস মণ্ডল। ছবি তুলেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন

জন্মদিনে সাধারণত দুটি বিষয় ঘটে। একদিকে নতুন বছরে পদার্পণের আনন্দ, অন্যদিকে একটি বছর ফুরিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ। আপনি জন্মদিনকে কীভাবে দেখেন?

স্বাভাবিকভাবেই সবার মতো আমার জন্যও এই দিনটি বিশেষ। কারণ এই দিনটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবন থেকে চলে গেল একটা বছর। বাকি যে সময় আছে সেই সময়ে জীবন রাঙাও সেই রঙে, যে রঙ এখনও লাগাতে পারোনি তোমার জীবনে।

 

বিশেষ এই দিনে কারো কথা মনে পড়ে কি-না!

আব্বাকে খুব মনে পড়ে। আমাদের ৮ ভাইবোনের মধ্যে আমার জন্মদিনটি অবশ্যই বিশেষভাবে পালন করতেন আব্বা। বাবার সঙ্গের স্মৃতিগুলো তো ভোলার মতো না। ঘুরে-ফিরেই মনে পড়ে।

 

বিশেষ দিনে আবারো বিশেষ পরিচয়ে আপনাকে পাওয়া যাবে। বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে চাই—

বিশেষ দিনে নিজের কাজের মধ্য দিয়ে একটু ভিন্ন আনন্দ পেতে চাই। যা সারাবছর পাওয়া যায় না। অভিনয় আমার জন্য আনন্দের। এক সময় আমি নিয়মিত অভিনয় করতাম। সেটি এখন করা হয় না। তাই এদিন চেহারা ও চুলে রঙ মেখে মঞ্চে উঠবো নিত্যপুরাণ নাটকে। এটা খুবই উপভোগ্য হবে আমার কাছে।

 

নিয়মিত অভিনয়ে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

এই সময়ে এসে অভিনয়ে নিয়মিত হওয়া ইচ্ছাটা করে না। আবারো হয়তো ২ যুগ পর কাজ করবো। আমি প্রায় ৩০টি মঞ্চনাটকে অভিনয় করেছি। কিন্তু যখন মনে হলো আমার দ্বারা অভিনয় হবে না তখন অভিনয় থেকে সরে এলাম। মঞ্চের পেছনের মানুষটি মূলত আমি।

 

আপনার নতুন নাটক ‘জলবাসর’-এর কথা এখন অনেকেরই জানা। কবে নাগাদ মঞ্চে নাটকটি দেখা যাবে?

অনেকদিন ধরে আমাদের মহড়া চলছে। কাজ প্রায় অনেকটা গুছিয়ে এনেছি। আশা করা যায় আগামী বছরের শুরুতে নাটকটি মঞ্চে আসবে। এখন পর্যন্ত আমাদের এমনই পরিকল্পনা। এটি আমার ভিন্ন ধরনের একটি নাটক। সাধারণত আমার নাটকগুলো সংলাপ নির্ভর হয়। এই নাটকটি সেই জায়গা থেকে ভিন্ন। নতুন একটি অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে এটি।