বন্ড সুবিধায় আনা সুতা ও কাপড় আটকের ঘটনায় সিরাজগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকজনকে আসামি করে চারটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে ঢাকার বন্ড কমিশনারেট অফিস। গত সোমবার রাত ও গতকাল মঙ্গলবার এসব মামলা দায়ের করা হয়। এর আগেও পুরান ঢাকার অবৈধ ও চোরাই সুতা আটকের ঘটনায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অতীতে বন্ডের চোরাই মালামাল ধরা পড়ার ঘটনায় শুল্ক আইনে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হলেও এবারই ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলো। এর ফলে চোরাকারবারিদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। পুরান ঢাকার মামলায় এরই মধ্যে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি আটক হওয়ার পর অভিযুক্তদের কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
সূত্র জানায়, গত দেড় মাসে সিরাজগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে চারটি অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৭৪ টন অবৈধ বন্ডেড সুতা উদ্ধার করা হয়। এনবিআর গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় স্থানীয় ভ্যাট অফিস ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত ১৩ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার চরচালায় মাধব সাহার গুদাম থেকে ৭ হাজার ৫৫০ কেজি এবং তামাই গ্রামে শেখ শামীমের গুদাম থেকে ৩০ হাজার ৭০০ কেজি অবৈধ বন্ডেড সুতা আটক করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে বেলকুচি থানায় দুইটি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া গত ৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার এলাকার বিসমি ইয়ার্ন ট্রেডিং এবং নিকটস্থ মাঠে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৯ হাজার ৪৫০ কেজি অবৈধ বন্ডেড সুতা আটকের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া ১৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের সুতারপাড়া, বংশাল রোড এলাকার সাদ ট্রেডার্স এবং আজাদ ট্রেডার্সের গুদামে অভিযানেও ২৫ হাজার ৮৩৬ কেজি অবৈধ বন্ডেড সুতা আটক করা হয়। এ ঘটনায়ও আলাদা একটি মামলা দায়ের করা হয়।
কাস্টম বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার এবং টাস্কফোর্স সভাপতি এস এম হুমায়ুন কবীর বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সুতা ও কাপড় খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, অবৈধ বন্ড ব্যবসার উত্স এবং গন্তব্য চিহ্নিত করে এর সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকবে।