চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ চলছে বিরামহীন

বিরামহীনভাবে চলছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মাণের কাজ। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দেশে প্রথম নির্মিত হচ্ছে এই টানেল। ইতিমধ্যে টানেলের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল নির্মাণে বর্তমানে খননকাজ চলছে। চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) নির্মাণকাজ করছে। টানেলের নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৬৫ কোটি টাকা চুক্তিতে নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই টানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, টানেলের কারণে কর্ণফুলীর দুই পাশে শহর সম্প্রসারিত হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে নতুন করে শিল্পায়নসহ অর্থনৈতিক গতি পাবে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই টানেল।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহসভাপতি প্রকৌশলী সুবাস বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, আনোয়ারায় অর্থনৈতিক জোন নির্মাণ করে শিল্পায়ন বাড়াতে হবে। শিল্পায়ন বাড়ানো না গেলে টানেলের সফল মিলবে না। টানেলের উভয় পাশে সড়কব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সবচেয়ে বড়ো হচ্ছে টানেলের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ। টানেলের ভেতরে জমা থাকা গ্যাস বের করে অক্সিজেন ঢোকার ব্যবস্থা রাখতে হবে। অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি ও শিল্পায়ন বাড়ানো না গেলে উদ্দেশ্য সফল হবে না।

টানেলের প্রবেশমুখ কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম প্রান্তে পতেঙ্গা এলাকায়। টিবিএম মেশিনের মাধ্যমে পতেঙ্গা থেকে শুরু করা খননকাজ আনোয়ারা অংশে গিয়ে শেষ হবে।              সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নদীর তলদেশে মাটির ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরতায় খননকাজ চলছে। টানেলের ভেতরে দুটি টিউব থাকবে। প্রথম পর্যায়ে একটি টিউবের খননকাজ করা হচ্ছে। এই পর্যন্ত ১ হাজার ২২০ মিটার টিউবের রিং প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। একটি টিউবের কাজ শেষ করে অপরটির কাজ শুরু হবে। অত্যাধুনিক বোরিং মেশিন দিয়ে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ মিটার করে খনন করা হচ্ছে।

টিবিএম মেশিনে খননের পাশাপাশি টানেলে সেগমেন্ট বসানো হচ্ছে। কংক্রিটের সেগমেন্টগুলো চীনের কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে। পুরো টানেল নির্মাণে ১৯ হাজার ৬১৬টি সেগমেন্ট প্রয়োজন হবে। এরই মধ্যে ৮ হাজার ৬৮৮টি সেগমেন্ট প্রকল্পস্থলে এসে পৌঁছেছে।

দুটি টিউবের একটি দিয়ে গাড়ি আসবে, আরেকটি দিয়ে গাড়ি যাবে। টানেলের প্রতিটি টিউব ৩৫ ফুট প্রশস্ত এবং উচ্চতা ১৬ ফুট। একটি টিউবে বসানো হবে দুটি স্কেল। এর ওপর দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। পাশে হবে একটি সার্ভিস টিউব। মাঝে ফাঁকা থাকবে ১১ মিটার। এর ফলে এই টানেল দিয়ে বড়ো যানবাহন দ্রুত নিরাপদে চলতে পারবে। প্রকল্প সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন অর্থায়ন করবে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকার জোগান দেবে। এই টানেল চালুর প্রথম বছরে ৬৩ লাখ গাড়ি নদীর তলদেশ দিয়ে চলাচল করবে। একসময় এই সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখে গিয়ে ঠেকবে। চালুর প্রথম বছরে চলাচলকারী গাড়ির প্রায় ৫১ শতাংশ হবে কনটেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলর ও বিভিন্ন ধরনের ট্রাক। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস ও মিনিবাস আর ১২ লাখ কারসহ বিভিন্ন  ছোটো গাড়ি।

কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, গত  ফেব্রুয়ারিতে টানেলের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে টানেলের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। এর মধ্যে টানেলের নির্মাণকাজ শেষ হবে।