জাপার চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদের কেন অবৈধ নয় :হাইকোর্ট

কাউন্সিল ব্যতীত জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান পদে জি এম কাদেরের থাকা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, জি এম কাদেরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক।       আব্দুল মতিন খসরু ইত্তেফাককে বলেন, জাপার গঠনতন্ত্রে রয়েছে কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে হবে। কিন্তু জি এম কাদেরের ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি। এ কারণে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে ইতিপূর্বে চিঠি দেন জাপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. জহির উদ্দিন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ঐ চিঠির ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে উনি সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছে।

জাপার সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ চলতি বছরের ৫ মে তার ছোটো ভাই জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ। এর চার দিনের মাথায় বনানীতে পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরের নাম ঘোষণা করেন। প্রথমে ঐ ঘোষণার বিরোধিতা করলেও পরে এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের মধ্যে সমঝোতা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর আরেক সংবাদ সম্মেলনে মসিউর রহমান জানান, জি এম কাদের পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। আর রওশন এরশাদ হবেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা। আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাপার কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে।