নোয়াখালীতে গরম খুন্তি দিয়ে স্ত্রীর সারা শরীর ঝলসে দিল স্বামী

যৌতুকের দাবিতে স্বামী মোশাররফ হোসেন উজ্জল তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন কলির সারা শরীর গরম খুন্তি দিয়ে ঝলসে দিয়েছে। একই সঙ্গে কেটে দিয়েছে মাথার চুল। জেলা শহর মাইজদীর বসিরার দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত কলিকে গত সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে কলির বাবা ইউসুফ আলী বাদী হয়ে উজ্জলের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। 

হাসপাতালের চিকিত্সক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, কলির অবস্থা গুরুতর। তার সারা শরীরে লোহার গরম কিছু দিয়ে ঝলসে দেওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে হাসপাতালে কলিকে দেখতে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসা এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আবদুর রহীম।

জানা গেছে, জেলার কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের বড়ো রামদেবপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে নিলুফার ইয়াসমিন কলির (২৭) সঙ্গে বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন উজ্জলের (৩৫) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ২০০৯ সালে। তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য স্বামী কলির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাত। নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাবার বাড়ি থেকে উজ্জলকে বিদেশ যাওয়ার জন্য কয়েক বার টাকা এনে দেন কলি। তিনি সৌদি আরব গিয়ে দুই মাস আগে দেশে ফেরার পর আবারও যৌতুকের জন্য কলির ওপর নির্যাতন শুরু করে।

সর্বশেষ গত বুধবার রাতে জেলা শহরের বসিরার দোকান এলাকায় ভাড়া বাসায় উজ্জল যৌতুকের জন্য কলির মাথার চুল কেটে দিয়ে গরম খুন্তি দিয়ে সারা শরীর ঝলসে দেয়। এ সময় শিশু সন্তাকে বেঁধে রাখা হয়। কলি চিত্কার করলে ছেলেকে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেয় উজ্জল। পরে সুযোগ বুঝে ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে বাপের বাড়িতে গিয়ে উঠেন কলি। শুক্রবার কলির চিকিত্সার জন্য কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্বজনরা। হাসপাতালেও সন্ত্রাসী নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায় উজ্জল। এমনকি জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে কলিকে আবারও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় লোকজনের তাড়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।