জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল ও তার স্ত্রী ফাহমিদা নিলুফারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশন গতকাল মঙ্গলবার অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদন যাচাই বাছাই করে এ দুই জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়। শিগিগরই দুদকের উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৩ ডিসেম্বর ফিরোজ ইকবালের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ঐ মামলায় ফিরোজ ইকবালের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিজ নামে ৬৪ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৩৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, দুদকের নোটিশের প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবালের স্ত্রী ফাহমিদা নিলুফার দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। ঐ বিবরণীতে ফাহমিদা নিলুফার তার নিজের নামে টাঙ্গাইলের করটিয়া মৌজায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৫১ শতাংশ জমি এবং ৪৫ লাখ ৪৮ হাজার অস্থাবর সম্পদের হিসাব দেন। দুদকের অনুসন্ধানে ফাহমিদা নিলুফার প্রায় ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদ অর্জনের বিষয়ে ফাহমিদা নিলুফার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাহমিদা নিলুফার একজন গৃহিণী। তার স্বামী একজন সরকারি কর্মকর্তা। স্বামীর পাওয়া বেতনে তিনি তার দুই সন্তানকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এবং লন্ডন-আমেরিকায় পড়িয়েছেন। তারপরও ফাহমিদা নিলুফারের ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক মনে করে ফাহমিদা নিলুফার তার স্বামী ফিরোজ ইকবালের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ অর্থ বৈধ করার লক্ষ্য নিয়ে স্বামীকে সহায়তা করেছেন।