বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ভার্টিক্যাল রোলার মিল

মো. শামসুল আলম

১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে বিশ্বমানের সিমেন্ট তৈরি করছে শাহ্ সিমেন্ট। উত্পাদনের প্রথম বছর থেকেই ধারাবাহিকভাবে দেশের সর্বাধিক বিক্রীত সিমেন্ট ব্র্যান্ড হিসেবে এটি স্বীকৃত। দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পণ্যের গুণগত মানের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। এই ধারাবাহিকতায় শাহ্ সিমেন্টের উত্পাদন প্রযুক্তিতে নতুন সংযোজন—বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ভার্টিক্যাল রোলার মিল (ভিআরএম)। এই ভিআরএম দিয়ে শাহ্ সিমেন্ট ও বাংলাদেশের নামটি উঠে এসেছে গিনেজ ওয়ার্ল্ড-এর রেকর্ডের পাতায়।

এই ভার্টিক্যাল রোলার মিলের গ্রাইন্ডিং টেবিল ডায়ামিটার ৮.০৮ মিটার এবং রোলার ডায়ামিটার ২.৬৪ মিটার। ছয়টি রোলার সমন্বিত এই ভিআরএম প্রতিদিন ১৫ হাজার এবং বছরে ৬০ লক্ষ টন সিমেন্ট উত্পাদন করতে সক্ষম। এ কারণে, এই ভিআরএমকে পৃথিবীর একক বৃহত্তম হিসেবে সত্যায়িত এবং নথিভুক্ত করেছে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

সিমেন্টের উন্নতমান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হিসেবে ভিআরএম প্রযুক্তি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সারাবিশ্বে সমাদৃত। ভিআরএম প্রযুক্তিতে ডেনমার্কের এফএলস্মিথ-এর বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি রয়েছে। শাহ্ সিমেন্টের নতুন এই ভিআরএম স্থাপনে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়েছে এফএলস্মিথ। নতুন এই ভার্টিক্যাল রোলার মিলে সর্বাধুনিক ডিজিটাল এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। ভিআরএম প্রযুক্তি বাংলাদেশে এর আগে সীমিত পরিসরে ব্যবহূত হলেও এত বৃহত্ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এটাই প্রথম। নিজেদের অগ্রযাত্রাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ভিআরএম প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নেয় শাহ্ সিমেন্ট। ডেনমার্কের এফএলস্মিথ ও বাংলাদেশের শাহ্ সিমেন্টের পারসপরিক সহযোগিতায় আলোর মুখ দেখে পৃথিবীর সর্ববৃহত্ ভার্টিক্যাল রোলার মিল। সিমেন্ট উত্পাদনে একইসঙ্গে আকারে বৃহত্ এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের উদাহরণ পৃথিবীতে এটাই প্রথম।

আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক (ব্র্যান্ড মার্কেটিং) নওশাদ চৌধুরী বলেন, ক্রেতাদের আস্থাই শাহ্ সিমেন্টের মূল ভিত্তি। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ক্রেতা নিজের বাড়ি নির্মাণে শাহ্ সিমেন্টের ওপর আস্থা রেখেছেন। ক্রেতাদের এই অবিচল আস্থা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে এক বড়ো স্বপ্ন দেখার; শাহ্ সিমেন্টকে নিয়ে, বাংলাদেশকে নিয়ে। আমরা যখন উত্পাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কথা ভাবছিলাম, তখন এমন উত্পাদন প্রক্রিয়ার কথা ভেবেছি, যা দেশ জুড়ে শাহ্ সিমেন্টের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহই শুধু নিশ্চিত করবে না, প্রতিটি ব্যাগে সেরা মানের সিমেন্টের নিশ্চয়তাও দেবে।

শুধু আকারে বড়ো কিংবা অনেক বেশি উত্পাদনসক্ষম বলেই নয়; এর সঙ্গে যুক্ত আছে ইন্টেলিজেন্ট মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম। যার মাধ্যমে কমিপউটার নিয়ন্ত্রিত প্যানেল থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে উত্পাদিত সিমেন্টের গুণগত মান সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতরভাবে বিশ্লেষণ সম্ভব হয়। একইসঙ্গে উত্পাদনের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়ও করা যায় যথাযথভাবে। এই ভিআরএমের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উত্পাদন প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজেই বিল্ট-ইন-টুলস দিয়ে সমাধান করতে পারে। ইন্টেলিজেন্ট মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম এবং এআই-এর সমন্বয় থাকায় শাহ্ সিমেন্টে স্থাপিত ভিআরএম থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নতমানের সিমেন্ট উত্পাদন নিশ্চিত হয়। শাহ্ সিমেন্টে স্থাপিত পৃথিবীর সর্ববৃহত্ এই ভিআরএম বাংলাদেশের আবাসন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্বীকৃতির মাধ্যমে শাহ্ সিমেন্ট বাংলাদেশের নামটিও নিয়ে গেল এক অনন্য উচ্চতায়।

 

লেখক : সম্পাদক, মুক্ত আকাশ