আমাদের গাড়ি থাকবে আমাদের রাস্তায়, বাড়ি বাড়ি

অ টো মো বা ই ল

অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রির জন্য আমরা গত তিন/চার বছর যাবত্ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের ভাগ্য ভালো যে­ একজন ভালো পার্টনার পেয়েছি। কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট মাহাথির বিন মোহাম্মদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ইউআইটিএস-এর কনভোকেশনে এসেছিলেন। পরে তিনি তার দেশে ফিরে গিয়ে সুফি মোহম্মদ মিজানুর রহমান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। মাহাথির মোহাম্মদ যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন তার সঙ্গে ছয় জন সেক্রেটারি ছিলেন। তারা পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্পর্কে গবেষণা করেন। তারপর আমার বাবাকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানান

আকতার পারভেজ

সাধ্য এতদিন আমাদের সহায় না থাকলেও ‘দেশের রাস্তায় দেশের গাড়ি’ উত্পাদনে একপ্রকার নাছোড়বান্দা ছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পিএইচপি ফ্যামিলির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পিএইচপি অটোমোবাইলস লিমিটেড।  দেশে গাড়ি উত্পাদনের স্বপ্নময় মহাযাত্রা শুরু হলো পিএইচপি অটোমোবাইলের হাত ধরেই। দেশের মাটিতে উত্পাদিত গাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ ইত্তেফাক-এর কাছে

 

‘আমাদের রাস্তায় আমাদের গাড়ি’ কঠিন এ চ্যালেঞ্জের পথে হাঁটার প্রেরণা পেলেন কোথায় থেকে?

আকতার পারভেজ :পুরাতন ও অন্য দেশে ব্যবহার করা গাড়ি নিয়েই আমরা পথ চলছি বহু বছর ধরে। দেশে তৈরি নতুন গাড়ি মানুষের হাতে তুলে দিয়ে গাড়ি উত্পাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম লেখানোর তাড়না অনুভব করছিলাম অনেক আগে থেকে। যার বাস্তব প্রতিফলন আজ সকলের সামনে।

অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রির জন্য আমরা গত তিন/চার বছর যাবত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের ভাগ্য ভালো যে­ একজন ভালো পার্টনার পেয়েছি। কয়েক বছর আগে মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট মাহাথির বিন মোহাম্মদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ইউআইটিএস-এর কনভোকেশনে এসেছিলেন। পরে তিনি তার দেশে ফিরে গিয়ে সুফি মোহম্মদ মিজানুর রহমান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। মাহাথির মোহাম্মদ যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন তার সঙ্গে ছয় জন সেক্রেটারি ছিলেন। তারা পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্পর্কে গবেষণা করেন। তারপর আমার বাবাকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানান।

 

মালয়েশিয়ার গাড়ি উত্পাদনব্যবস্থা নিয়ে আপনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আকতার পারভেজ :আমরা যখন মাহাথির মোহাম্মদের আমন্ত্রণে মালয়েশিয়ায় যাই, তখন তিনি আমাদের বলেন, ‘তোমরা প্রথমে আমার অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিটা দেখো।’ আমরা ভাবছিলাম, কেন তিনি অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে পাঠাচ্ছেন আমাদের? এরপর ফ্যাক্টরি ভিজিট করে এলে মাহাথির মোহাম্মদ আমার আব্বাকে প্রস্তাব দিলেন, বাংলাদেশে অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার। বাবা হেসে বললেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নেই। আমার ব্যবসা গ্লাস, ঢেউটিন ও অন্যান্য পণ্যের।’ মাহাথির মোহাম্মদ বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমি আপনাদের বিশেষভাবে সহযোগিতা করব।’ দেশে পিএইচপি পরিবারের ২৭টি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করার তথ্যও নেন মাহাথির মোহাম্মদ। সেইদিন থেকেই আমাদের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে তার আগ্রহের শুরু।

 

গাড়ি উত্পাদনের মতো বিরাট এ চ্যালেঞ্জের বিষয়টি কীভাবে নিয়েছেন?

আকতার পারভেজ :মালয়েশিয়া থেকে দেশে এসে জায়গা নির্বাচন, জমি ক্রয়, নকশা তৈরি, গাড়ি ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করার মতো কারিগরি সহযোগিতা আমরা মালয়েশিয়া থেকে পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশীয় আর্কিটেক্টদের সহায়তাও পেয়েছি। এর আগে বিভিন্ন সংস্থার যথাযথ অনুমোদন নেওয়াসহ সবই ঠিকমতো সম্পন্ন করেছি। অনেক বাধা ছিল, কিন্তু আল্লাহর রহমতে সব দূর হয়েছে। অনেক ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের পর সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটা যেহেতু একটু ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি, তাই এর জন্য বাড়তি কষ্ট করতে হয়েছে। এখন সবার দোয়ায় আমরা গাড়ি তৈরি শুরু করেছি। গাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করার পর অনুধাবন করলাম যে, গাড়ি তৈরির খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে, কারণ আমরা মালয়েশিয়া থেকে যন্ত্রপাতি এনে অ্যাসেম্বল করছি। প্রথম দিকে ডিউটি স্ট্রাকচার ম্যানুফেকচারারদের অনুকূলে ছিল না। তারপর বিষয়টি বর্তমান সরকারকে জানাই। সরকারও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সার্বিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার (১৩৩২ সিসি) গাড়ি এখন আমরা ১৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারছি। আপনাদের একটা সুখবর এ মুহূর্তে দিতে পারি, গাড়ি বিক্রি আগের তুলনায় বেড়েছে। ভবিষ্যতে বিক্রি আরো বাড়বে আশা করছি।

 

গ্রাহক সেবার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করছেন?

আকতার পারভেজ :গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করার চিন্তা থেকে আমরা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি। যা দেশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দিতে পারেনি। গ্রাহকের গাড়ি যদি কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে তার গাড়ি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি বিকল্প গাড়ি ব্যবহারের জন্য দিয়ে থাকি। এ ছাড়া নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে মেইনটেন্যান্সের জন্য পাঁচটি ফ্রি সার্ভিসিং দেওয়া হচ্ছে। আমাদের গাড়ি কেনার পর থেকে ৩৫ হাজার কিলোমিটার মাইলেজের মধ্যে সার্ভিসিংয়ের ক্ষেত্রে যত ধরনের উপাদান (ওয়াস, লুব অয়েল, ফিল্টার, গিয়ার অয়েল) সবকিছুই ফ্রি দেওয়া হবে। দেশের মানুষের রুচিতে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন ধীরে ধীরে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির দিকে ঝুঁকছে। দেশের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির বিক্রি এখন বেড়েই চলেছে। কারণ, মানুষ গাড়ি কেনার পর অন্তত ৫ বছর নিশ্চিন্তে থাকতে চায়। দুই বছর আগেও মানুষের মধ্যে এই ধরনের সচেতনতা ছিল না। এখন মানুষ ঝামেলামুক্ত থাকতে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি কিনছেন।

বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘বিক্রয় পরবর্তী ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামে আমাদের তিনটি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার কাকরাইল ও তেজগাঁ লিঙ্ক রোডে দুটি শোরুম এবং সার্ভিস সেন্টার খোলা হয়েছে। বারিধারায় একটি সার্ভিসিং সেন্টার করা হচ্ছে। চলতি মাস থেকে এখানে পুরোদমে সার্ভিস দেওয়া শুরু হয়েছে। যেহেতু ঢাকা বড়ো শহর, তাই আমরা সেবার পরিধি বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় সার্ভিস সেন্টার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এ ছাড়া দেশব্যাপী রহিম আফরোজের যে ১১টি সেন্টার রয়েছে, তাতেও আমাদের গ্রাহকরা বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। তাদের সঙ্গে (রহিম আফরোজ) আমাদের চুক্তি হয়েছে।’

 

দেশে উত্পাদিত গাড়ির ভবিষ্যত্ সম্পর্কে যদি বলেন...                   

আকতার পারভেজ :দেশের বিভিন্ন জেলার ইঞ্জিনিয়ার ও গাড়ির মেকানিকদের আমরা সুদক্ষভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি—এ দেশে তৈরি গাড়ি এ দেশের রাস্তায় টিকে থাকার জন্য। আমাদের গাড়িগুলো যেহেতু মডার্ন, তাই যেকোনো মেকানিক গাড়ির সমস্যা বুঝতে পারেন না। গাড়ির কোথায় কী সমস্যা হয়েছে, কম্পিউটারের সাহায্যে তা চিহ্নিত করতে হয়! অন-কলেও সেবা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করার জন্য গ্রাহককে যত দ্রুত সম্ভব আমরা সেবা দিয়ে থাকি।

একটি গাড়ি তৈরিতে ৮,৩৩২টি আইটেম স্পেয়ার পার্টস লাগে। আমরা এখন এক শিফটে ১২টি গাড়ি তৈরি করছি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে তিন শিফটে দৈনিক ৩৬টি গাড়ি তৈরি সম্ভব। প্রটোন সাগা ১,৩৩২ সিসি, প্রটোন পারসোনা এমসি ১,৫৯৭ সিসি, প্রটোন প্রেডি ১,৬৬২ সিসির (টারবো চার্জারসহ) কার তৈরি করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রিমিয়াম লেভেলের এসইউভি গাড়ি এক্স ৭০ কার বাজারে ছাড়া হবে। সিডান কারের পাশাপাশি আমরা মাইক্রোবাসও তৈরি করছি। কর্পোরেট ক্লায়েন্টরা এই মাইক্রোবাস বেশি কিনছেন। এ গাড়িগুলোর তিন বছরের ওয়ারেন্টি দিচ্ছি আমরা। এর মধ্যে কিছু হলে রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি রয়েছে আমাদের তরফ থেকে।

ক্রেতাদের সুবিধার্থে কেউ যদি ডাউন পেমেন্টে গাড়ি কিনতে চান, তাহলে সাড়ে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে গাড়ির চাবি তাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। বাকি টাকা ব্যাংকঋণের মাধ্যমে সমন্বয় করতে পারবেন গ্রাহকরা। এ ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে তিনটি ব্যাংকের চুক্তি রয়েছে। গ্রাহক চাইলে নিজের পছন্দের ব্যাংক থেকেও ঋণ নিতে পারেন। ইঞ্জিন সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যার আমরা দ্রুত সমাধান দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে মেরামত নয়, সরাসরি রিপ্লেস গ্যারান্টিও দিচ্ছি। আমার মনে হয়, দেশের আর কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সুবিধা দেয় না। আমরাই প্রথম গ্রাহকের আর্থিক দিক বিবেচনা করে এই সুবিধা দিচ্ছি। এসব বিবেচনায় দেশে উত্পাদিত আমাদের গাড়ির ভবিষ্যত্ খুবই উজ্জ্বল। 

 

গাড়ি উত্পাদনে বর্তমান সরকারের সহায়তা করছে কতটুকু ?

আকতার পারভেজ :গাড়ি বিক্রি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারেরও ভূমিকা রয়েছে। সরকারি টেন্ডারগুলোতেও আমরা অংশগ্রহণ করছি। টেন্ডার ফরমে গাড়ির কান্ট্রি অব অরিজিন অপশনে বিভিন্ন দেশের নাম লেখা থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের নাম লেখা নেই। এখন বাংলাদেশেও গাড়ি তৈরি হচ্ছে। তাই সরকারের কাছে আবেদন থাকবে টেন্ডার ফরমের কান্ট্রি অব অরিজিন অপশনে যেন বাংলাদেশের নাম উল্লেখ থাকে। সরকারের অনেক কর্মকর্তা এখনো জানেন না বাংলাদেশেও সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ি তৈরি হয়।

আমরা বাংলাদেশকে অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তোলতে চাই। সরকারের প্রকিউরমেন্টের ক্ষেত্রে টেন্ডার ফরমে কান্ট্রি অব অরিজিন অপশনে বাংলাদেশের নাম লেখা থাকলে আমার মনে হয়, স্বাধীনতার ৫০ বছরের অর্জনে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে থাকবে।    

 

সামনের সময়গুলোতে গাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে কি কোন পরিকল্পনা আছে...        

আকতার পারভেজ :অটোমোবাইল উত্পাদনের পাশাপাশি রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে। সাফটা (সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া) চুক্তির আওতায় নেপালে বাংলাদেশে তৈরি প্রোটন গাড়ি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। কারণ, সেখানে প্রোটনের ডিলার রয়েছে। মুম্বাই পোর্ট কিংবা চট্টগ্রাম পোর্ট ব্যবহার করে তাদের গাড়ি আমদানি করতে হয়। তাই আমাদের নীতি-নির্ধারকরা যদি বিষয়টি বিবেচনা করেন, তাহলে এই সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারব। পাশাপাশি নেপালও সাফটার সুযোগ নিয়ে স্বল্প মূল্যে গাড়ি আমদানি করতে পারবে। এতে বাংলাদেশে তৈরি গাড়ির আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি হবে। সরকার এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ নিলে দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও আরো উজ্জ্বল হবে।

 

গাড়ি উত্পাদনে সার্বিক যদি বলা হয়, তাহলে কতটুকু এগিয়েছে আমাদের দেশিয় উত্পাদন প্রক্রিয়া?

আকতার পারভেজ :পিএইচপির কারখানা নগরীর সাগরিকায়। বাজারে বিক্রি বাড়ায় সেখানে এখন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কারখানার ২৫৮ জন প্রকৌশলী ও মিস্ত্রির ব্যস্ততার শেষ নেই। তাদের হাতেই ৮ হাজারের বেশি যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম সংযোজিত হয়। তৈরি হয় একেকটি গাড়ি। এখন

দিনের এক পালায় সংযোজিত হয় ১২টি করে। দুই বছর আগে ‘প্রোটন প্রিভে’ মডেলের গাড়ি বাজারজাত করা শুরু করে পিএইচপি।