যে কারণে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন না

মোজাহেদুল ইসলাম

 

আমরা অনেকেই জানি না, সফটওয়্যার পাইরেসি কী জিনিস? আপনি পিসিতে ডকুমেন্ট এডিটর, ফটো এডিটর, ভিডিও এডিটর বা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমই হয়তো ফ্রিতে ব্যবহার করেন, আর আপনি হয়তো জানেনও না এগুলো আসল সফটওয়্যার কি না! সফটওয়্যার পাইরেসি বলতে বোঝায়, আসল এবং লিগ্যালি প্রটেক্টেড সফটওয়্যারকে চুরি করে বা কোনোভাবে বাইপাস করে ফ্রিতে ব্যবহার করা। তো আপনি যে সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করছেন সেগুলো বৈধ তো? কীভাবে বুঝবেন আপনার সফটওয়্যারটি পাইরেটেড কি না?  এ বিষয়গুলো নিয়েই এ লেখাটি সাজানো হয়েছে।

সফটওয়্যার পাইরেসি

অনেকেই সফটওয়্যারের ডিভিডি ও ৩০-৫০ টাকায় কত গেমের ও ডিভিডি কিনে গেম কিনেছেন তার ঠিক নেই। তারা হয়তো জানেন না এগুলো পাইরেটেড সফটওয়্যার বা গেমস। সফটওয়্যার পাইরেসিকে এভাবে অনেকে জেনে বা না জেনে প্রোমোট করে থাকে। কোনো কপিরাইটেড সফটওয়্যার চুরি করে ব্যবহার করা বা ছড়িয়ে দেওয়াকে সফটওয়্যার পাইরেসি বলা হয়ে থাকে। এমনকি আপনি সফটওয়্যার যদি টাকা দিয়েই কিনে থাকেন সেটা আরেকজনকে কপি করে দেওয়া পাইরেসির মধ্যেই পরে। কেননা পারসোনাল লাইসেন্স শুধু একটি বা লিমিটেড ইউজাদের জন্য, একে কপি বা ছড়ানো যাবে না, সবাইকে ব্যবহার করতে হলে আলাদা লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

তবে সব সফটওয়্যার পাইরেসি কিন্তু সরাসরি টাকা ইনকাম করার জন্য হয় না, এতে ম্যালিসিয়াস ব্যাপার যুক্ত থাকতে পারে। কোন হ্যাকার অনেকের পিসি আক্রান্ত করানোর জন্য পেইড সফটওয়্যার মডিফাই করে ফ্রিতে ছড়িয়ে দেয়, এতে সহজেই মানুষ ফ্রি সফটওয়্যার বলে টোপ গেলে, আর ম্যালওয়্যারের খপ্পরে পরতে হয়।

আপনার দুইটি কম্পিউটার রয়েছে, আপনি একটার জন্য সত্যিই টাকা দিয়ে কোনো সফটওয়্যার কিনেছেন আর বাকিটাতেও সেই সফটওয়্যার ইনস্টল করেছেন। এখন যদিও আপনি পারসোনাল ব্যবহার করছেন এবং আপনার সফটওয়্যার লাইসেন্স যদি সিঙ্গেল পিসির জন্য হয়ে থাকেন তো ইয়েস, এখানে আপনি পাইরেসিই করছেন! আশা করি সফটওয়্যার পাইরেসির সংজ্ঞা বুঝতে পেরেছেন।

 

আপনি পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন না তো!

অনেকেই এর উত্তর আগে থেকেই জানেন, অনেকেই জেনে বুঝে ফ্রি উইন্ডোজ ব্যবহার করেন, ফ্রি এডোবি সফটওয়্যার বা মাইক্রোসফট সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করেন। বিশেষ করে আমাদের মতো অনুন্নত দেশগুলো, যেগুলোতে কম্পিউটার কিনতেই মানুষ হিমশিম খেয়ে যায় সেখানে হাজার ডলারের সফটওয়্যার কেনার কথা হয়তো কেউ কল্পনায় করেন না। তো তাদের কথা আলাদা, তারা জেনে বুঝেই হয়তো নিরুপাই হয়ে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। আর আমি এটাকে সমর্থন না করলেও তাদের বিচার করতে বসিনি। কিন্তু আপনি টাকা দিয়ে সফটওয়্যার কেনার পরেও হতে পারে আপনার সফটওয়্যারটি পাইরেটেড ভার্সন। সেক্ষেত্রে কিভাবে বুঝবেন আপনার সফটওয়্যারটি আসল কি না? ওয়েল, কিছু ব্যাপার মাথায় রাখলে এটা বুঝতে সুবিধা হতে পারে।

আসল সফটওয়্যার পাওয়ার জন্য সব সময় আসল ডেভেলপারের ওয়েবসাইট থেকে কেনার চেষ্টা করবেন, এতে আসল সফটওয়্যার পাওয়ার সুযোগ বেশি থাকবে। আপনি কোনো অনলাইন শপ থেকে অনেক কম দামে কোন সফটওয়্যার কিনলে হতে পারে সেটা পাইরেটেড কপি! দামের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকলে বেশির ভাগ সুযোগই হচ্ছে সেটা পাইরেটেড কপি। যেমন আপনি ইবেই তে এক ডলার দিলেও উইন্ডোজের লাইসেন্স কী কিনতে পাবেন, কিন্তু সেটা কি আসল?

বেশির ভাগ সফটওয়্যার কেনার পরে সেটাকে অ্যাক্টিভ করার দরকার পরে। কিন্তু কোনো সফটওয়্যার কেনার পরে সেটার অ্যাক্টিভেশন প্রসেস যদি অনেক লম্বা হয়ে থাকে তাহলে বুঝবেন সফটওয়্যারটি হয়তো পাইরেটেড, আর আপনি হয়তো অ্যাক্টিভ না করে তলে তলে অ্যাক্টিভেশন প্রসেস বাইপাস করছেন।

আসল সফটওয়্যার অবশ্যই নিয়মিত আপডেট প্রদান করে এবং বেশির ভাগ কেনা সফটওয়্যার ফ্রিতে আপডেট প্রদান করে। আপনার কেনা সফটওয়্যারটি যদি আপডেট না চায় বা আপডেট করার পরে সফটওয়্যারটি আবার কিনতে বলে সেক্ষেত্রে সফটওয়্যারটি পাইরেটেড হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

ক্ষতিকর হওয়ার কারণ

অনেকেই বলবেন, ‘আমাকে পাগলে কামড়িয়েছে যে আমি টাকা দিয়ে সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করব, যেখানে অনলাইনে ফ্রি ডাউনলোড করা যায়।’ দেখুন আপনার যদি সত্যিই সামর্থ্য না থাকে সেটা সম্পূর্ণ আলাদা গল্প, কিন্তু পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনি যে বিশাল লাভের মধ্যে রয়েছেন এমনটা ভাবলে ভুল করছেন।

বেশির ভাগ পাইরেটেড সফটওয়্যারের মধ্যে ম্যালওয়্যার এবং হ্যাকিং টুল লুকানো থাকে। একবার কমনসেন্স ব্যবহার করে দেখুন, কেউ আপনার জন্য কষ্ট করে কেন সফটওয়্যার ক্র্যাক করবে? তারপরে আপনাকে কেন ফ্রিতে ডাউনলোড করতে দেবে? ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করিয়ে তারা টাকা ইনকাম করতে পারে এটা একটা কারণ, কিন্তু বেশির ভাগ সময় তাদের টার্গেট আরো বড়ো হয়। কেননা সেই সফটওয়্যারগুলো মডিফাই করে সহজেই আপনার থেকে অনেক কিছু হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। আপনার পিসিকে একবার আক্রান্ত করাতে পারলে শুধু লাভই লাভ! আর এভাবে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করার ফলে লাখো কোটি কম্পিউটার আক্রান্ত হচ্ছে।