সরকারি ব্যাংকের ৯ জিএমের বদলি স্থগিত

রেজাউল হক কৌশিক

রাষ্ট্রী মালিকানাধীন ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৯ মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) সরকারি পাঁচটি বিশেষায়িত ব্যাংকে প্রেষণে বদলির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বদলি হওয়া ওই কর্মকর্তারা আগের কর্মস্থলেই থাকবেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঋণ পুনঃতফশিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালার কার্যক্রম চলমান থাকায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জারিকৃত রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের মহাব্যবস্থাপকদের বদলির বিষয়টি আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা যেতে পারে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যাংকের জিএমদের এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। মূলত কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের গতি বাড়াতে এ ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকের জিএম মাসফিউল বারী, মো. হাবিবুর রহমান গাজী, রূপালী ব্যাংকের মো. আ. রহিম, মো. শওকত আলী খান, মো গোলাম মর্তুজাকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে বদলি করা হয়েছিল। এছাড়াও রূপালী ব্যাংকের জিএম কাজী আব্দুর রহমানকে কর্মসংস্থান ব্যাংকে, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের মো. কামিল বুরহান ফিরদৌসকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে, অগ্রণী ব্যাংকের মো. মনিরুল ইসলামকে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে, জনতা ব্যাংকের মো. মাহবুবুর রহমানকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে বদলি করা হয়েছিল।

অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ২২ জন মহাব্যবস্থাপকের পদ শূন্য। একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের বিপুল সংখ্যক পদ খালি থাকায় ব্যাংকের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। এ কারণেই বিশেষায়িত ব্যাংকের পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিকে ওই বৈঠকে প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর মুনাফা বাড়ানোর কথা বলা হয়। এজন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের কার্যক্রম জোরদার করাসহ সকল ব্যাংককে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও তা অর্জন করতে হবে বলে বলা হয়।

একইসঙ্গে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে  সঠিক ও নির্ভুলভাবে এক ও অভিন্ন ফরম্যাটে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। আর এটা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে সমন্বয় সভা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ২৩ শতাংশ এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ এবং ঋণ পুণঃতফশিল ও এককালীন এক্সিট সংক্রান্ত নীতিমালা মানার জন্য সরকারি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়।