বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গতকাল বুধবার যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় নানা আয়োজন ও আনন্দ-উত্সবের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উত্সব শুভ বড়দিন উদ্যাপিত হয়েছে। বড়দিন উদ্যাপনে দেশের সব চার্চ ও তারকা হোটেলগুলোকে ক্রিসমাস ট্রি, রঙিন বাতি, বেলুন আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়। পাশাপাশি হোটেল ও পরিবারগুলোতে নানা ধরনের কেক ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের নেতা স্বপন রোজারিও জানিয়েছেন, গতকাল সকাল থেকে বড়দিনের প্রার্থনা এবং রাতে গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এ উপলক্ষ্যে খ্রিষ্টান পরিবারগুলোতে কেক তৈরি করার পাশাপাশি ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। বড়দিন উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে খ্রিষ্টান সম্প্র্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ উপলক্ষ্যে সেখানে একটি ক্রিসমাস গাছ রোপণ ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ, কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও, কূটনৈতিক কোরের ডিন আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও পররাষ্ট্র মিশনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় একদল সংগীতশিল্পী বড়দিনের গান পরিবেশন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি বড়দিনের কেক কাটেন ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। শিশুদের মধ্যে উপহার সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেন সান্তাক্লজ। এ উপলক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জায় (পবিত্র জপমালার গির্জা) বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। গির্জা ও এর আশপাশে রঙিন বাতি জ্বালানো হয়। প্রচুর জরি লাগিয়ে গির্জার ভেতর সুসজ্জিত করা হয়। সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি। এছাড়া বড়দিন উপলক্ষ্যে গির্জার মূল ফটকের বাইরে বসে মেলা। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ উদ্যাপনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ম্যাজিক শো, পুতুলনাচ, টিয়া পাখি দিয়ে ভাগ্য গণনা, সান্তাক্লজের সঙ্গে ডিজে ড্যান্সসহ শিশুদের জন্য নানা রাইড। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গির্জাগুলোয় আসতে থাকেন যিশু ভক্তরা। কয়েকটি পর্বে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলযজ্ঞের যিশুকে আহ্বান করে চলে ভক্তদের প্রার্থনা। শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দের বার্তা যেন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এমনটাই প্রার্থনা তাদের।
এছাড়া রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেলসহ দেশের বড়ো হোটেলগুলোতেও বড়দিন উদ্যাপনের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। হোটেলগুলোতে মঙ্গলবারই আলোকসজ্জা করা হয়।
খ্রিষ্ট ধর্মানুসারীরা বিশ্বাস করেন, ২ হাজার বছর আগের এই দিনে পৃথিবী আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট। বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে কুমারী মাতা মেরির কোলে তিনি জন্ম নেন।