প্রকৃতি ও পরিবেশের করাল গ্রাসে ঝিনাইদহের পাগলা কানাই ইউনিয়নের কয়েকটি নিম্নবর্ণের হিন্দু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে গৃহহীন হয়ে যাওয়ায় যাযাবর জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছিলেন। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে অবশেষে তাদের ঠাঁই হয় ইউনিয়নের একটি মন্দিরের পাশে। সেখানে নিম্ন আয়ের এ অধিবাসীরা ছোটো ছোটো ঝুপড়ি ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তাদের বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের নজরে আসে। সরকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে এখানকার ১০টি পরিবারের জন্য ১০টি ঘর নির্মাণ করে দেয়। ‘একতা গুচ্ছগ্রাম’ নামের এ আশ্রয়ণ প্রকল্পটিতে আবাসন ব্যবস্থা পেয়ে নিশ্চিন্তে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়ে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করছেন তারা।
এখানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুত্ না পৌঁছায় প্রাথমিকভাবে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের টিআর/কাবিটা প্রকল্পের আওতায় দুটি সৌরবিদ্যুত্ এর স্ট্রিট লাইট আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে এই ১০টি পরিবারই উপকৃত হচ্ছেন। বিশেষ করে তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, সন্ধ্যায় রান্নাবান্না করা, সংসারের অন্যান্য কাজকর্ম করতে খুব সুবিধা হচ্ছে। ছেলেমেয়েরা সন্ধ্যার পর সৌরবিদ্যুতের আলোয় পড়ার জন্য ঘরের বারান্দায় বসে যায়।
একতা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা শ্রী সুনীল কুমার বিশ্বাস বলেন, এখানে স্ট্রিট লাইট বসাতে তাদের বেশ উপকার হয়েছে। দুটি বাতি থাকায় তাদের ১০টি ঘরের বারান্দাসহ পুরো উঠান সন্ধ্যার পর পরই আলোকিত হয়ে উঠে। কয়েকটা ঘরের ভেতরেও আলোকিত হয় এ আলোয়। স্ট্রিট লাইটের কাছের যে ঘরটি তার বাসিন্দা জয়ন্তী রানি। তার স্বামী রবিন বিশ্বাস রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তিনি বারান্দায় বসে সৌরবিদ্যুতের আলোয় বসে কাঁথাও সেলাই করেন।
আরেক বাসিন্দা রতন কুমার বিশ্বাস ট্রাকের হেলপার, কখনো কৃষি শ্রমিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, ‘ঘরে ঘরে না পেলেও যতটুকু এই সৌরবিদ্যুত্ পেয়েছি তাতেই আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি।’ তাদের পুরো উঠান, কলপাড়, বাথরুম, রান্নাঘর সবই এতে আলোকিত হওয়ায় এখানকার বয়স্করা বেশ সহজে রাতে চলাফেরা করতে পারছেন। তবে তাদের দাবি, যেহেতু এখানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুত্ নেই তাই সরকার প্রতিটি ঘরে সোলার প্যানেল দিলে এ দরিদ্র পরিবারগুলো আরো একটু স্বস্তিতে তাদের জীবনযাপন করতে পারতেন।