দুই বোর্ডই নিজেদের অবস্থানে অনড়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হোম সিরিজ দেশের বাইরে খেলবে না দেশটি। তাই শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুই টেস্টও পাকিস্তানেই খেলতে চায় তারা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) অবস্থান পরিবর্তন করেনি। তবে বিসিবির অবস্থানে নতুন করে যোগ হয়েছে কিছু শঙ্কা। এতদিন শুধু টি-টোয়েন্টি খেলে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি এবং পরে টেস্ট ম্যাচ দুটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, তামিম-মুশফিকদের পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তও পুরোপুরি পাকা হয়নি।
তবে বিসিবি সভাপতি গতকাল দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলবে না বাংলাদেশ। তাই এটুকু এখন স্পষ্ট, পাকিস্তানে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুটি টেস্ট হওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায় চলে গেল।
পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ আছে কি না, প্রশ্নে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘আমি এই মুহূর্তে কোনো সুযোগ দেখছি না। এখন পর্যন্ত ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝলাম, তেমন কোনো সুযোগ নেই।’
পাকিস্তানে নিরাপত্তা ঝুঁকি অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। বিসিবি সভাপতিও তাই মনে করেন। নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘একটা ব্যাপার আছে যে ওখানে একটা ঝুঁকির ব্যাপার তো আছেই। যে কোনো জায়গাতেই হতে পারে, কিন্তু অন্যান্য অনেক জায়গার চেয়ে পাকিস্তানের শঙ্কা নিশ্চিতভাবেই একটু বেশি। আমরা বলছি না যে আমরা যাব না। যেহেতু এই প্রথমবারের মতো যাচ্ছি, সুতরাং ক্রিকেটারদের মধ্যে একটা শঙ্কা থাকতেই পারে। এসব ব্যাপারে কাউকে জোর করার প্রশ্নই ওঠে না।’
সরকার থেকে টি-টোয়েন্টি খেলতে যাওয়ার সবুজ সংকেত এখনো পায়নি বিসিবি। বোর্ড সভাপতি বলেছেন, ‘আমরা যে টি-টোয়েন্টি খেলতে যাব, এটারও এখনো পুরোপুরি সবুজ সংকেত পাইনি। খেলোয়াড়রাও বলছে না যে আমরা যাব। এটা অনেক কঠিন একটি কাজ এবং সিদ্ধান্ত।’
এদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফের বেশির ভাগ সদস্যই পাকিস্তান সফরে যেতে রাজি নন। অথচ সফর নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেটার, কোচদের অনাগ্রহ সম্পর্কে গতকাল বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘কোচিং স্টাফদের অনেকে আগেই বলে দিয়েছে, ওরা যাবে না। কেউ কেউ যেতে পারে, তবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। আর বেশির ভাগই যেতে চায় না।’
ক্রিকেটাররাও অনেকে অনীহা জানিয়েছেন পাকিস্তানে যেতে। নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলছি। এখনো চলছে। অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু কিছু ক্রিকেটার যেতে ইচ্ছুক নয়। আবার কিছু আছে, যারা যেতে রাজি তবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য। ওদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একটি বড়ো ব্যাপার হলো পরিবার। ওদের বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন সবাই চিন্তিত, উত্কণ্ঠায় আছে। তারা বলছেন যে না গেলে কী হয়!’
অতিথি দলকে কঠোর নিরাপত্তা দিচ্ছে পাকিস্তান। সাত স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ক্রিকেটারদের নাভিশ্বাস উঠবে, এই পরিস্থিতিতে খুব বেশি সময় কাটানো কঠিন কর্মই বটে। বিসিবি সভাপতি গতকাল বলেছেন, ‘আরেকটি ব্যাপার হলো, ওরকম নিরাপত্তাব্যবস্থায় কত দিন থাকা যায়। বন্ধ একটা পরিবেশে কত দিন থাকা যায়। ক্রিকেটারদের যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রায় সবাই বলেছে যে এত লম্বা সময় আমরা থাকতে চাই না।’