দুই দিন বিরতির পর আবার মাঠে গড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল। চট্টগ্রামে গত মঙ্গলবার শেষ হয়েছে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্ব। আজ থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিপিএলের তৃতীয় পর্ব। আজ দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা প্লাটুনের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্সের প্রতিপক্ষ খুলনা টাইগার্স।
চট্টগ্রাম পর্ব শেষে সাত ম্যাচ খেলে পাঁচটি জিতে শীর্ষে আছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দলটির চোখ এখন প্লে-অফ তথা সেরা চারে। দ্রুতই প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে চায় চট্টগ্রাম। প্লে-অফের খুব কাছাকাছিই আছে দলটি। আর একটি ম্যাচ জিতলেই কার্যত সেরা চারে তাদের খেলা অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাবে। আজ ঢাকার বিপক্ষে সেই জয়ের খোঁজে মাঠে নামবে চট্টগ্রাম।
যদিও এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে পাচ্ছে না চট্টলার দলটি। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে আজও খেলতে পারছেন না তিনি। এমনকি ঢাকায় বাকি ম্যাচগুলোতে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অবশ্য চট্টগ্রাম আশাবাদী, ৩১ ডিসেম্বর মাহমুদউল্লাহকে পাবে তারা।
মাহমুদউল্লাহর অবর্তমানে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরুল কায়েস। গতকাল তিনি জানিয়েছেন, আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করতে মুখিয়ে তারা। বিসিবি একাডেমিতে ঢাকায় নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে ইমরুল বলেছেন, ‘পরবর্তী একটা ম্যাচ জেতা প্রধান লক্ষ্য। কারণ ছয় ম্যাচ জিতলে অনেকটা নিশ্চিত হওয়া যায় প্লে-অফে খেলার। এরপর চারটা ম্যাচ থাকবে, ঐটা নিয়ে পরে চিন্তা করব। পরবর্তী লক্ষ্য আরেকটা ম্যাচ জেতা।’
মাহমুদউল্লাহর ইনজুরির বিষয়ে সর্বশেষ জানতে চাইলে ইমরুল বলেছেন, ‘এটা তো নির্ভর করছে ওনার ফিজিওর ওপর। স্ক্যান করা হয়েছে বলে আমি শুনেছি। আশা করি সামনের ম্যাচে পাওয়া যদি না-ও যায়, পরের ম্যাচগুলোতে যাবে। তবে আমি নিশ্চিত না।’
এদিকে চট্টগ্রামের ম্যানেজার ফাহিম মুনতাসীর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মাহমুদউল্লাহ পরবর্তী ম্যাচেও খেলতে পারবে না। ওর চোট পুরোপুরি সেরে উঠতে একটু সময় লাগছে। আমরা আশাবাদী যে ঢাকা পর্বের শেষ ম্যাচে রিয়াদ মাঠে ফিরবে।’
ঢাকায় প্রথম পর্ব শেষে শীর্ষে থাকলেও এখন রান সংগ্রাহকদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে নেমে গেছেন ইমরুল। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এখন বিদেশিদের আধিপত্য। নিজের অবস্থান, রান নিয়ে ভাবছেন না এই বাঁহাতি। দলের জন্য অবদান রাখার দিকেই মনোযোগী এই ব্যাটসম্যান।
গতকাল তিনি বলেছেন, ‘দেখেন, আমি আসলে কত নম্বরে আছি এটা নিয়ে চিন্তা করছি না। এগুলো নিয়ে চিন্তা করলে যে ম্যাচগুলোতে রান করিনি, সেগুলোয় হয়তো নিজের খেলাটা খেলতে পারতাম। হয়তো ৫০ বল খেলে নিজের জন্য ৬০-৭০ রান করতে পারতাম। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি দলের চাওয়া অনুযায়ী খেলার জন্য।’
প্রথম পর্বে মিরপুরে সর্বোচ্চ রান উঠেছিল ১৮২। আজ থেকে শুরু হতে চলা তৃতীয় পর্বেও উইকেটে রানের আশা করছেন ইমরুল। বেশ কিছুদিন বিশ্রাম পাওয়ায় ভালো উইকেট পাওয়া যাবে বলে আশা এই বাঁহাতির।
গতকাল ইমরুল বলেছেন, ‘ঢাকার উইকেট কিন্তু অন্যান্যবারের চেয়ে এবার অনেক ভালো। আমরা প্রথম পর্বে ঢাকায় যে ম্যাচগুলো খেলেছি, খুবই ভালো উইকেট ছিল। লম্বা সময় মাঝে খেলা হয়নি এখানে। আশা করি উইকেটগুলো আগের মতোই থাকবে এবং এরকম উইকেটে টি-টোয়েন্টি খেলেও মজা আসলে। ব্যাটসম্যান, বোলার এবং দর্শক সবাই মজা পায়।’