গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে বেশ কিছুদিন ধরে (বিনামূল্যে প্রদানের জন্য) জলাতঙ্ক রোগের অ্যান্টি র্যাবিক্স ভ্যাকসিন (টিকা) নেই বলে জানা গেছে। ফলে শহরের ওষুধের দোকানগুলো থেকে ক্রয় করে এনে রোগীকে ভ্যাকসিন দিতে হচ্ছে। ভ্যাকসিন না থাকার বিষয়টি যেসব রোগী আগে থেকে জানতেন না, তাদের অনেকেই হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে টাকা কম থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৪ ডিসেম্বর থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে এই সেবা থেকে গাইবান্ধার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।
বুধবার সকালে গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে দুই বছরের ছেলেকে ভ্যাকসিন দিতে আসা পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের পবনাপুর গ্রামের কোহিনুর বেগম বলেন, আমি জানতাম না যে হাসপাতালে ভ্যাকসিন সাপ্লাই নেই। সাঘাটা উপজেলার চিনিরপটল গ্রামের অমিছা বেগম জানান, পাঁচ বছরের ছেলেকে বিড়াল আঁচড় দিয়েছিল। এজন্য হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে এসেছিলাম। কিন্তু সাপ্লাই না থাকায় ফেরত যাচ্ছি।
জলাতঙ্ক রোগের টিকা প্রদানের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের স্টাফ নার্স মো. আব্দুল মালেক সরকার বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর ভ্যাকসিনের চাহিদা দিয়েছি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে। এখন পর্যন্ত পাইনি। মূলত ঢাকার মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) থেকে এই ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু ভ্যাকসিন আনতে যাওয়ার লোকের অভাবেই এই ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে।
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহফুজার রহমান বলেন, ‘যেসব রোগীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, সে সব তথ্য কম্পিউটারাইজড করে ঢাকায় গিয়ে জমা দিয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে হয়। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর না থাকায় রোগীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার এসব তথ্য কম্পিউটারাইজড করতে দেরি হয়। ফলে ভ্যাকসিন আনতে যেতে দেরি হওয়ায় রোগীদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া যাচ্ছে না। শনিবার ঢাকায় লোক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সোমবার বা মঙ্গলবার থেকে রোগীরা আবার বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাবেন।’