রাজধানীতে চলমান আবাসন মেলায় আবাসন কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্টল সাজিয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কম সুদে গ্রাহক-দর্শনার্থীদের গৃহঋণ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। কোন ব্যাংকের ঋণে সুদ কত, এর সঙ্গে অন্য কোনো সার্ভিস চার্জ আছে কিনা এমন তথ্য নিতে এসব স্টলে দর্শনার্থীদের ভিড় করতে দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) মেলায় ঘুরে এমন তথ্য দেখা গেছে। গত বুধবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় যেসব প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে তাদের মধ্যে সর্বনিম্ন সাড়ে ৯ শতাংশ সুদে গৃহঋণ দিচ্ছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। আর সিটি ব্যাংক ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। তবে ব্যাংকটি গৃহনির্মাণের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। মেলা উপলক্ষ্যে এ ব্যাংক প্রসেসিং ফি রাখছে অর্ধেক।
ব্র্যাক ব্যাংক ১০ শতাংশ সুদে গৃহঋণ দিচ্ছে। এই ব্যাংকটিও প্রসেসিং ফি অর্ধেক রাখছে। মিউচুয়াল ট্রাস্টের সুদহার সাড়ে ১০ শতাংশ, প্রাইম ও গ্রিন ডেল্টাও একই সুদ নিচ্ছে। এর বাইরে আইডিএলসি সার্ভিস হোল্ডারদের জন্য ১০ দশমিক ৯৯ ও ব্যবসায়ীদের জন্য ১১ দশমিক ৪৯, লংকা বাংলা ১১ দশমিক ৪৯, ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং আইপিডিসি ১১ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। আর আইএফআইসি ব্যাংক গৃহঋণের ক্ষেত্রে ১০ থেকে শুরু ১১ শতাংশ সুদ নিচ্ছে।
এবারের মেলায় ২৩০টি স্টল রয়েছে। এসব স্টল সাজিয়েছে ৩০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৪ অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানসহ ১৬০টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি নাগরিকের স্বপ্ন সুন্দর জায়গায় একটি নিজস্ব বাসস্থান। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে অনেক নাগরিকই খোঁজ করেছেন ছোটো ফ্ল্যাটের। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে মেলায় অংশ নেওয়া ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো।
রিহ্যাবের বর্তমানে ১ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে। এরই মধ্যে মাত্র ২৩০টি কোম্পানি মেলায় অংশ নিয়েছে। এবারের মেলায় ঢাকার বাইরে থেকেও বেশ কয়েকটি আবাসন কোম্পানি অংশ নিয়েছে। প্রথমবারের মতো রিহ্যাব মেলায় অংশ নিয়েছে বরিশালের বাকলা ডেভেলপারস লিমিটেড। বরিশাল বিভাগীয় পর্যায় থেকে আসা আবাসন কোম্পানি বাকলা ডেভেলপার্সের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বলেন, সফলতার সঙ্গে আমরা গ্রাহকের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেছি, আমরা চাই বরিশালের মানুষ বরিশালে ফিরে আসুক। বরিশালে ঢাকার মতো উন্নতমানের ফ্ল্যাট হচ্ছে সেটিও তারা জানুক।
মেলায় সকাল ১০ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রেতা দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারছেন। মেলায় দুই ধরনের টিকিট থাকছে। একটি সিঙ্গেল এন্ট্রি অপরটি মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল টিকিটের প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। আর মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে এক জন দর্শনার্থী মেলার সময় ৫ বার প্রবেশ করতে পারবেন। এন্ট্রি টিকিটের প্রাপ্ত সম্পন্ন অর্থ দুস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে। আর এন্ট্রি টিকিটের রাফ্রেল ড্র তে থাকছে আকর্ষণীয় সব মূল্যবান পুরস্কার রয়েছে।