ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য এলাকাভিত্তিক শস্য সংরক্ষণাগার ও ক্রয়কেন্দ্র খোলার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের মজুত ক্ষমতা ১ কোটি টনে উন্নীত করতে হবে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এমনকি ক্ষেত্রভেদে কৃষক ও স্থানীয় পর্যায়ে ধানসহ কৃষিপণ্য মজুতকরণের শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কমপক্ষে মোট উত্পাদন খরচের ২৫ শতাংশ লাভে ধানের বাজার মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের আর্দ্রতা, রাসায়নিকের উপস্থিতিসহ পণ্যের মান যাচাইয়ের নামে কৃষক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। মান যাচাইসহ পণ্যের বাজার উপযোগিতার বিষয়গুলো চাষের পূর্বেই কৃষককে সরকারিভাবে অবহিত করাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার, জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ধানের ন্যায্যমূল্য : সংকট ও প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
মূল প্রবন্ধে বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের শ্রমে ঘামে উত্পাদিত ধানের বাজারমূল্য কম থাকায় তারা বর্তমানে দিশেহারা। প্রতিবছর লোকসান গুনে কৃষির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে তারা। সেমিনারে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কৃষকদের অবদান, উত্পাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবি জানান।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা শুধু কৃষকের জীবন জীবিকার প্রশ্ন নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য প্রয়োজন। এই খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটিয়ে শহরমুখী জনস্রোত বন্ধ করে গ্রাম উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে এবং তা অপরিহার্য। বক্তারা আরো বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ, শিল্পায়ন আর নানাবিধ কারণে কৃষি জমির হ্রাস, কৃষি উপকরণের নানা সীমাবদ্ধতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত বিভিন্ন অভিঘাত মোকাবিলা করে এদেশের কৃষকরা দেশের চাহিদা অনুযায়ী ধানের উত্পাদন নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ যেখানে দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশ জড়িত।
বক্তারা আরো বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধান উত্পাদনের প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে শীর্ষে। ২০১৮ সালে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ, পূর্বাভাস অনুযায়ী এ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে। যদিও এ সাফল্যের অংশীদার কৃষক, সরকার, কৃষি গবেষণা ও কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু এ সাফল্যের সুবিধা থেকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন এদেশের কৃষকরা। ধানের উত্পাদন খরচের প্রায় অর্ধেক মূল্য পাচ্ছেন কৃষক।
সেমিনারে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ধারণাপত্র উপস্থাপন করবেন বারসিকের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস। বক্তব্য রাখেন কৃষকনেতা ছবি বিশ্বাস, পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান, কৃষক সমিতির উপদেষ্টা জামাল হায়দার মুকুল, হাওর অঞ্চলবাসীর সমন্বয়ক ড. হালিম দাদ খান, কৃষিবিদ এ বি এম তৌহিদুল আলম, মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাপার যুগ্মসম্পাদক মিহির বিশ্বাস, কবি লিলি হক, কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এ এস এম বদরুল আলম, প্রকৌশলী আনোয়ার, শিক্ষার্থী প্রমুখ। সেমিনার সঞ্চালনা করেন পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।