হিন্দু হওয়ায় পাকিস্তান দলে ব্রাত্য ছিলেন কানেরিয়া : শোয়েব

ভারতের ক্রিকেট দলে মুসলমান খেলোয়াড়দের দাপট ও মোটামুটি অংশগ্রহণ দেখা গেলেও পাকিস্তান দলে হিন্দু খেলোয়াড় কমই দেখা যায়। এবার শোয়েব আকতারের কথায় মিললো ভেতরের খবর। শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণেই ভালো পারফরমেন্স করেও ব্রাত্য ছিলেন ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছরে দলের সঙ্গে থাকা অন্যতম লেগ স্পিনার দানিশ ক্যানেরিয়া।

 

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক দুই বোলিং স্তম্ভ দানিশ ক্যানেরিয়া ও শোয়েব আকতার। দুজনেরই খেলোয়াড়ী জীবনের পাঠ চুকেছে অনেক আগেই। তবে সেই সময়ের কথা বলেই নতুন করে আলোচনায় তারা। এক টিভি অনুষ্ঠানে শোয়েব আকতার বলেছেন, ‘‘আমার খেলোয়াড় জীবনে আমি দু’তিন জনের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করেছি, যখন তারা ধর্ম নিয়ে কথা বলেছে। তারা যখন বলত, ‘কে করাচির, কে পঞ্জাবের বা কে পেশোয়ারের’, তা শুনে রাগ হত। সে-রকমই কোনও ক্রিকেটার যদি হিন্দু হয়, আর সে যদি পাকিস্তান দলের হয়ে ভাল পারফরম্যান্স করে, তা হলে ধর্মের কথা ওঠে কী ভাবে?’’

 

কিংবদন্তী গতিসম্রাট শোয়েব আখতার বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলে বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়ার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। কারণ দানিশের ধর্ম হিন্দু। তাই দলে কিছুটা ব্রাত্য ছিল ও। অনেকে ওর সঙ্গে বসে খেতে পর্যন্ত চাইত না। শোয়েবের এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

পাকিস্তানের দ্বিতীয় হিন্দু ক্রিকেটার ছিলেন দানিশ কানেরিয়া। তাঁর মামা অনিল দলপত ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু ক্রিকেটার। পাকিস্তানের হয়ে ৬১টি টেস্ট ম্যাচে ২৬১ উইকেট নিয়েছেন দানিশ। গড় ৩৪.৭৯। পাকিস্তানের হয়ে ১৮টি ওয়ান ডে-ও খেলেছেন কানেরিয়া।

 

শোয়েব আরও বলেন, ‘‘সেই ক্রিকেটারেরা বলত, স্যার, এই ছেলেটি এখান থেকে খাবার নিচ্ছে কেন? অথচ সেই হিন্দু ছেলেটাই আমাদের টেস্ট জিতিয়েছিল ইংল্যান্ডে। যদি পাকিস্তানের হয়ে খেলতে নেমে কেউ প্রচুর উইকেট পায়, তা হলে তারই তো খেলা উচিত। আমরা কানেরিয়ার মরিয়া প্রচেষ্টা ছাড়া টেস্ট জিততে পারতাম না। কিন্তু অনেকেই ওকে সেই কৃতিত্ব দিতে চায় না।’’

 

কানেরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শোয়েবের মন্তব্য ঠিক বলে মেনে নেন। বলেন, ‘‘শোয়েব ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তি। ওর কথাবার্তাও ওর বলের মতোই শানিত। যখন পাকিস্তানের হয়ে খেলতাম, তখন এই কথাগুলো প্রকাশ্যে বলার সাহস ছিল না। কিন্তু শোয়েবের এই বক্তব্যের পরে এ বার মুখ খুলব। শুধু শোয়েব নয়, ওই সময়ে আমার হয়ে লড়েছে ইনজ়ি ভাই (ইনজ়ামাম-উল-হক), মহম্মদ ইউসুফ ও ইউনিস ভাই (ইউনিস খান)।’’ যোগ করেন, ‘‘যারা আমার সঙ্গে ওই আচরণ করত, তাদের নামও খুব দ্রুত জানাব। সঙ্গে এটাও বলতে চাই, পাকিস্তানের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত।’’ খবর আনন্দবাজারের।

 

ইত্তেফাক/এএম