নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই মাস পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের দুই দিনব্যাপী ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার সকাল ১০টায় শুরু হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় সকাল ১১টায়।
বৈরী আবহাওয়ায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে এ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নগরীর নথুল্লাবাদ ও রূপাতালী বাস টার্মিনাল এবং লঞ্চঘাট থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌছে দেয়ার জন্য বিনামূল্যে বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করেন বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এতে করে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও নির্বিঘ্নে যাতায়াত ব্যবস্থা থাকায় তেমন ভোগান্তি পোহাতে হয়নি ভর্তিচ্ছুদের।
বিসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হাসান বাবলু জানিয়েছেন, সিটি মেয়র নিজ উদ্যোগে ১২টি বাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে এ যাতায়াত ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, বিকেলে ও শনিবারের পরীক্ষার্থীদের জন্য একই ব্যবস্থা করেছেন সিটি মেয়র।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬ হুজি নেতা গ্রেফতার
শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৫৬০টি আসনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ হাজার ১০৬জন শিক্ষার্র্থী। পরীক্ষা শুরুর পরপরই সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন। তিনি কেন্দ্র পরিদর্শন করে সার্বিক প্রস্তুতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এবার কোন প্রশ্নপত্র ফাঁস বা ফাঁসের গুজব না ছাড়ানোয় সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ‘গ’ ইউনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ ২টি কেন্দ্রে ৩শ’ আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষার্থী ৬ হাজার ১২ জন।
দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ ১২টি কেন্দ্রে ‘ক’ ইউনিটে ৫৮০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষার্থী ২০ হাজার ৫শ’ ৬৭জন। ‘খ’ ও ‘গ’ এবং আজ ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শেষে ৩০ ডিসেম্বর ফল প্রকাশ করার কথা বলেন উপাচার্য।
এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের ২৪টি বিভাগে ১ হাজার ৪শ’ ৪০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ৯শ’ ৫৬ জন। প্রতি আসনে প্রতিদ্বন্ধি ৩৫ জন।
এর আগে গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ ধার্য্য থাকলেও উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সহ গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পদ খালী থাকায় ওই দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। তবে ঐ দফায় ছাপানো ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাদ দিয়ে নতুন প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়েছে বলে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এমআরএম