২০১৯-এর উল্লেখযোগ্য ঘটনা
নাটকের ডিজিটাল প্লাটফর্মের সংখ্যা বেড়েছে
লাভজন কন্টেন্ট এখন নাটক
গত্বাঁধা গল্প থেকে বের হতে পারেনি এবারো
বাজেট কম, তবুও অভিনয়শিল্পীদের সম্মানী বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে
বাজেট কমাতে পরিচালকই এখন নাট্যকার
তরুণদের নিয়ে নাটকের বেশিরভাগ সংলাপে ‘বিপ’ ব্যবহার বেড়েছে
সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউটিউব চ্যানেলে গানের চেয়ে নাটক বেশি
g মোস্তাফিজ মিঠু
দেশের সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনের অবস্থা হতাশাজনক। নাটক, সিনেমা বা সংগীত যা নিয়ে আলোচনা হোক না কেন, মানের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি এ বছরেও। তবে নাটকের সংখ্যার দিক থেকে অবস্থাটা ভালো বলা যায়। কারণ অন্যদিকে সিনেমার সংখ্যা প্রতিবছর যেভাবে কমছে সেই জায়গায় পেশাদার মানুষের অভাব সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর সংগীত এখন কালে-ভদ্রে আলোচনা করার বিষয়। সেই জায়গা থেকে নাটকের সংখ্যাটা বাড়ছে প্রতিবছরই। নতুনদের সংখ্যাটাও বাড়ছে। এরসঙ্গে পেশাদার নিশ্চয়তাও খুঁজে নিচ্ছেন তারা। যেহেতু নাটকের প্লাটফর্মের সংখ্যা বেড়েছে, আর পুরোটাই এখন ডিজিটালভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তাই এখানে রেভিনিউয়ের নিশ্চয়তা থাকছে। আর অনলাইনের সিনেমা বা গানের কন্টেন্টের চেয়ে নাটকের দর্শক অনেকগুণ বেশি। তাই টিভি চ্যানেলগুলো থেকে শুরু করে সংগীত প্রযোজনা সংস্থা ও স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোর অর্থ আয়ের অন্যতম কন্টেন্ট নাটক।
তবে সবকিছুর পরও মান নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে তখন নাটকেরও বেহাল দশা। গল্পের কোনো পরিবর্তন নেই। যে পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো ঘুরে ফিরে একই বৃত্তের। নতুন ভাবনা নেই নাটকে, নতুনদের মধ্যে অভিনয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়ার প্রবণতার বড়ই অভাব। এই বিষয়গুলো কিন্তু ঘুরে ফিরেই আসছে। একঘেঁয়েমিতে পরিণত হয়েছে দেশের নাটকের অবস্থা।
এই সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বাজেট। নব্বইয়ের দশকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা একটি একক নাটকের জন্য বাজেট থাকতো। সেই জায়গায় এখন একটি নাটকের বাজেট ২ লাখ অতিক্রম করেন না। ডিজিটাল প্লাটফর্মে যখন সবচেয়ে জনপ্রিয় কন্টেন্ট নাটক তাই ইউটিউব বা স্ট্রিমিং অ্যাপ থেকে নাটকের আয়ের নিশ্চয়তা অনেকটাই বেড়েছে। তবুও বাজেট নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই অনেকের। এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। বিশেষ দিবস উপলক্ষে অনেক নির্মাতা নাটকের জন্য ভালো বাজেট পান। কিন্তু সেই সংখ্যাটা এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য নয়। বাজেটের এই আলোচনার মধ্যে এই বছর অভিনয়শিল্পীদের সম্মানী নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ নাটকে জনপ্রিয়তার প্রথমদিকে যারা রয়েছেন তাদের সম্মানী এখন অনেকটা আকাশচুম্বি। তাই গল্পে নায়ক-নায়িকা ছাড়া মাত্র কয়েকটি চরিত্র নিয়ে বাঁধা হচ্ছে গল্প। অন্যতম কারণ নাটকের যে বাজেট থাকে তার অর্ধেক বা অর্ধেকের বেশি অর্থ চলে যায় শিল্পীদের সম্মানীর পেছনে। নাটকের এই বেহাল অবস্থায় শিল্পীরা বিভিন্ন আশার কথা বলেন। কিন্তু সম্মানী নেওয়ার বিষয়ে কারো কোনো ছাড় নেই। যে প্রভাবগুলো পড়ছে নাটকের গল্পে। ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি, অভিনেতা ও নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীরা যে হারে সম্মানী নিচ্ছেন সেগুলো কতটুকু ঠিক সেটি নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কারণ যেখানে নাটকের বাজেট নিয়ে এত সমস্যা। নাটকের মান দিনদিন কমছে। সেখানে কিছু জায়গা থেকে যদি বাজেট কমে এসে সেগুলো নাটকের মানের জন্য খরচ করা হয় সেখানে আমাদের একটি ভালো নাটক বের হবে। ইউটিউব আসার পর এখন নাটকের ভিউ গুনে শিল্পী নির্বাচন করা হয়। এটি অবাক করার মতো বিষয়।’
শিল্পীদের এত টাকা দিতে গিয়ে প্রযোজক গল্পে যেমন নতুন কোনো লোকেশন যোগ করতে পারছেন না তেমনি গল্পের গাঁথুনি মজবুত করার জন্য কোনো গল্পকারও পাচ্ছেন না। এক সময় নাট্যকারদের যে জনপ্রিয়তা ও মানসম্মত গল্প ছিল, সেখান থেকে এখনকার নাট্যকারদের নামই অনেকেই জানে না। যদিও এখন রচনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা একজনই করে থাকেন। বাজেটে কমতি থাকায় ৩ জনের কাজ এখন একজনই করছেন। তাই আলাদাভাবে কাজের বিশেষত্ব থাকছে না তাদের। এই বছর শেষে নাটক নিয়ে আলোচনাটা খুব বেশি ভিন্ন না হলেও এবার ঈদের নাটকগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কারণ প্রতিবছর ঈদের নাটকগুলো যতটা সমালোচনা মুখে পড়ে, সেই জায়গা থেকে এবার অনেকটা কম। বরং কয়েকটি নাটক উল্লেখ করে বেশ প্রশংসা করেছেন অনেকে। সেই ধারাবাহিকতা যে এরপর খুব বজায় থেকেছে এমনটাও নয়। তবে অভিনয়শিল্পী ও পরিচালকদের অনেকেই বলছেন আগামীবছরটা আমাদের নাটকের জন্য আরো ভালো সময় হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে কয়েকটি ধারাবাহিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও সংলাপের দুর্বলতা ও সংলাপে বিপ দেওয়ার প্রবণতা ধারাবাহিক নাটকেও বেড়েছে এখন। আর গল্পের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তো রয়েছেই!