লুত্ফর রহমান রবি
অপার সম্ভাবনার এই বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে বেকারত্ব। যত দিন গড়াচ্ছে তা প্রকট আকার ধারণ করছে, যা আমাদের অনাগত সুন্দর ভবিষ্যেক ঠেলে দিচ্ছে হুমকির মুখে। একজন মানুষ যখন তার পেশা হিসেবে কাজ খুঁজে না পায় তখনকার পরিস্থিতিকে বলা হয় বেকারত্ব। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা নিরক্ষর বেকারদের তুলনায় অনেক বেশি। এর একটা প্রধান কারণ তাদের চাহিদা অনুযায়ী চাকরি না পাওয়া এবং শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বাস্তব জীবনে কাজের মিল খুঁজে না পাওয়া। শিক্ষিত বেকারত্বের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই তার জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। সেইসঙ্গে প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারছে ১১ লাখ ৫০ হাজারের মতো। বাকিরা থেকে যাচ্ছে বেকারত্বের তালিকায়।
বর্তমান সময়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ দিতে চায় অভিজ্ঞতা সমপন্ন লোকজন। তাই অনেকাংশে নতুনেরা থেকে যাচ্ছে কর্মসংস্থানের বাইরে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সৃষ্টি হচ্ছে বেকারত্ব। যে জনসম্পদ বহিঃবিশ্বের উন্নতির কারণ, এই একই জনসম্পদ কর্মসংস্থানের অভাবে পরিণত হচ্ছে গলার কাঁটায়। চাকরি না পেয়ে তারা ভোগে হীনম্মন্যতায়। অর্জিত শিক্ষা কাজে না লাগাতে পারায় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যায় তাদের মধ্যে। আমরা যদি পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব তাদের উন্নতির মূল হাতিয়ার হলো দক্ষ জনশক্তি। মানব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করে তারা পৌঁছে গেছে উন্নতির শিখরে। তেমনি আমাদের দেশের উন্নতির চাকা ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজন মানব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার।
বেকার সমস্যা লাঘব করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বাঞ্ছনীয়। যথাযথ পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে হবে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিক্ষিত যুবসমাজকে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা ও পরামশদানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে বলা যায়—মত্স্য চাষ, গবাদিপশু পালন, পাখি পালন, হাঁস-মুরগির খামার, সেলাই মেশিন ক্রয়ের মাধ্যমেও বেকার সমস্যা কিছুটা লাঘব করা সম্ভব। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে উন্নত প্রযুক্তির শিক্ষা দিয়ে দক্ষ কৃষক তৈরির মাধ্যমে কৃষিতে উন্নয়ন ঘটানো যায়। বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করে জনবল নিয়োগ দিয়ে বেকারত্বের চাপ কমিয়ে শিল্পোন্নত হওয়া সম্ভব। সর্বোপরি কর্মমুখী শিক্ষা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিকল্প নেই। মানব সম্পদ যথাযথ ব্যবহার করা গেলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের কাছে একটি অনুকরণীয় দেশ।
কুমিল্লা