বস্তি ও প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, পুড়ল শতাধিক ঘর

খোলা আকাশের নিচে শীতার্তদের কষ্টের জীবনযাপন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মিরপুরের বাউনিয়া বস্তিতে আগুন লেগে শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে কয়েক শ বস্তিবাসী সব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে তীব্র শীতের মধ্যে চরম সংকটের মধ্যে রয়েছেন। খাবারের পাশাপাশি পানি ও শীতের কাপড়ের সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে। গত বৃহস্পতিবার রাতে আগুন লাগার পর ভোরের দিকে তা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২টার দিকে হাজারীবাগের লোহারপুল সংলগ্ন এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল তৈরির একটি কারখানায় আগুন লাগে। এসময় কারখানার শ্রমিকেরা দ্রুত বের হয়ে আসেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে পুরো কারখানাটি পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার জীবন মিয়া লিটন জানান, আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বর্ধনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে ঐ তদন্ত কমিটিকে সদর দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পল্লবীর বাউনিয়াবাদ বাঁধ বস্তির বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১টার দিকে পল্লবীর বাউনিয়াবাদ বাঁধের বস্তির বামপাশের একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্রমেই আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। এতে বস্তির  প্রায় ১০০টি ঘর পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নির্বাপণে স্থানীয় বাসিন্দারাও ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন।

ঐ বস্তিতে আগুন লাগার পর গতকাল শুক্রবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বস্তিবাসীর পাশে দাঁড়ান। সেই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকেও তাদের সহযোগিতা করা হয়। সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্ সাংবাদিকদের জানান, আগুনে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। শীতের মধ্যে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে স্থানীয় একটি স্কুলে। সেই সঙ্গে গরম কাপড়েরও ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত তাদের পুনর্বাসন না হয় ততোদিন তাদের দেখভাল করা হবে।

জানা গেছে, ভয়াবহ আগুনে ঘরবাড়ি হারিয়ে দুই শতাধিক মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। অনেকেই বস্তির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের পুড়ে যাওয়া সরঞ্জাম খুঁজছিল। আগুনে বস্তির খুপরি ঘরের পাশাপাশি অনেক দোকান পুড়েছে।

বস্তির বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, বেড়িবাঁধের কাছে গড়ে উঠেছিল বস্তিটি। বস্তিটিতে ৮০টির মতো দোকানসহ তিন শতাধিক ঘর ছিল। অধিকাংশই টিন আর কাঠের টং ঘর। ছোটো  ছোটো প্রতিটি ঘরে বসবাস ছিল দুই থেকে পাঁচ জন করে মানুষ। বাসিন্দাদের অধিকাংশই রিকশা-ভ্যানচালক। কেউবা ভাঙারির ব্যবসা করেন। আবার অনেকেই ফেরি করে প্লাস্টিক সামগ্রী ও পণ্য বিক্রি করেন। আগুনে সবই পুড়ে গেছে।

সেলুনের কর্মচারী আব্বাস আলী জানান, আগুনের কথা শুনে বস্তির লোকজন যে যেভাবে পেরেছে জীবন নিয়ে বের হয়ে এসেছেন। বস্তির পূর্ব পাশের বাসিন্দা ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা শামসুদ্দীন আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার কক্ষে উপার্জন করা ৩০ হাজার টাকাসহ সব পুড়ে গেছে। বেঁচে থাকার কিছুই নেই। গার্মেন্ট কর্মী আলতাফ মাহমুদ জানান, দুই সপ্তাহ পর তার বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। ঘরে থাকা তার ৪০ হাজার টাকা, ভিসা, পাসপোর্ট সব পুড়ে গেছে।