নারী ফুটবল লিগ
নেয়ামত উল্লাহ
প্রায় সাত বছরের অচলায়তন ভেঙে জানুয়ারিতে মাঠে গড়াচ্ছে নারী ফুটবল লিগ। বাংলাদেশে ঘরোয়া নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ এ টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা এলে তবেই মিলবে সফলতা, অভিমত বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রাব্বানি ছোটন ও দেশের প্রথম ফিফার তালিকাভুক্ত নারী রেফারি জয়া চাকমার।
ফুটবলে বাংলাদেশের নারীদের পথচলাটা ২০০৬-২০০৭ এর দিকে হলেও লিগ পদ্ধতির টুর্নামেন্ট হয়েছিল কেবল দুটো। ২০১২ ও ২০১৩ সালে দুই আসরের পর আবারও থমকে যায় নারী ফুটবল লিগ। প্রায় সাত বছরের এ অচলাবস্থা ভেঙে আগামী জানুয়ারিতে লিগটি মাঠে গড়াবে, গত বৃহস্পতিবার ঘোষণাটি দিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এর আগে আগামী ১২ থেকে ২৬ জানুয়ারি চলবে দলবদল।
বাফুফে জানায়, লিগে আপাতত পাঁচ দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। দলগুলো হচ্ছে—বসুন্ধরা কিংস, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, উত্তরবঙ্গ এফসি ও বেগম আনোয়ারা স্পোর্টিং ক্লাব। তবে বিজেএমসি কিংবা আনসারের অংশগ্রহণেরও আলাপ চলছে। সেটা হয়ে গেলে লিগে দলের সংখ্যাও বাড়বে।
প্রায় সাত বছর পর এই টুর্নামেন্ট যেমন আশাবাদ সঞ্চার করছে নারী ফুটবলে, তেমনি মুদ্রার উলটাপিঠে আছে শঙ্কাও; নিয়মিত হবে তো লিগ? জাতীয় নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রাব্বানি ছোটন জানালেন এর ধারাবাহিকতার ওপরই নির্ভর করবে টুর্নামেন্টের সফলতা। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘লিগটা নিয়মিত হলে তবেই লাভবান হবে নারী ফুটবল। অন্যথায় এর খুব একটা প্রভাব আশা করা যায় না।’
তবে দীর্ঘ বিরতির পর এই লিগ শুরুর ঘোষণা আসায় স্বস্তি ঝরেছে ছোটনের কণ্ঠে, ‘শুরু হওয়াটা প্রয়োজন ছিল, সেটা হয়েছে। এখন কম দল নিয়ে হচ্ছে, ধারাবাহিকতা থাকলে ভবিষ্যতে এখানে অংশগ্রহণ বাড়বে? তখনই ফুটবলে এর প্রভাব পড়বে?
প্রায় ৩০০ নারী ফুটবলারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্ট নারী ফুটবলে গতি সঞ্চার করবে, আশাবাদ জয়া চাকমার। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ‘নারী ফুটবলে এই লিগ বড়ো প্রভাব রাখবে। খেলোয়াড়রা এখন সিনিয়র পর্যায়ে যেমন খেলার সুযোগ পাবে? বয়সভিত্তিক পর্যায়ের ফুটবলারদেরও আরো ভালো করতে প্রেরণা জোগাবে।’
বাংলাদেশ ফুটবলে প্রথম নারী কোচ হিসেবে পুরুষ দলকে কোচিং করিয়ে গেল মৌসুমে ইতিহাস গড়েছিলেন মিরোনা। ঢাকা সিটি এফসি কোচ অবশ্য একমাত্র নারী কোচ নন। জয়া চাকমা জানালেন, নারী লিগ তাদেরও খুলে দেবে সম্ভাবনার দুয়ার, ‘আমাদের অনেকেই আছেন যারা এএফসির কোচিং প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারাও এখন কাজ করার সুযোগ পাবে। সব মিলিয়ে বড় সম্ভাবনার দুয়ারই খুলে দেবে এই লিগ।’
তবে কোচ ছোটনের সুরে জয়াও জানালেন ধারাবাহিকতা না থাকলে এর সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসবে পড়বে, ‘নারী লিগ এক বছর হয়ে পরের বছর হলো না, এমন হলে সুফল পাওয়াটা কঠিন। ধারাবাহিকতা থাকতে হবে টুর্নামেন্টে।’