ঢাকা-বরিশাল রুটে নৌপথে সবচেয়ে বেশি মানুষ যাতায়াত করলেও পর্যাপ্ত লঞ্চ না থাকায় সমস্যায় পড়ে গেছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকার সুযোগে লঞ্চগুলোর টিকিট কালোবাজারে পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আকাশপথে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি না হলেও যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তিন গুণ বেশি দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে কোম্পানিগুলো। ঢাকা-বরিশাল উভয় প্রান্ত থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি প্রতিদিন বেসরকারি ইউএস বাংলা, নভোএয়ার কোম্পানি একটি করে উড়োজাহাজ সার্ভিস রয়েছে। প্রতিদিন এসব ফ্লাইটের ২ হাজার ৭০০ টাকার টিকিট ৯ হাজার টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না। আজ শনিবারের টিকিটের জন্য গতকাল বেসরকারি দুটি কোম্পানির অফিসে গিয়ে জবাব মেলে—‘কোনো টিকিট নেই।’ সর্বশেষ ৮ হাজার ৮০০ টাকায় ইউএস বাংলা ও নভোএয়ারের টিকিট বিক্রি হয়েছে। আকাশপথের বুকিং এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, প্রতিদিন ফ্লাইট থাকলেও এক সপ্তাহ আগেই টিকিটের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে বিমান বাংলাদেশসহ অপর দুটি কোম্পানি।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল নদীবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন গতকাল শুক্রবার বরিশাল থেকে আটটি নৌযান যাত্রী পরিবহন করলেও আজ শনিবার ছয়টি নৌযানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিন সার্ভিসে থাকা বিলাসবহুল কীর্তনখোলা-১০ রিজার্ভে এবং পারাবত-১২ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে থাকছে না। বিলাসবহুল সুন্দরবন-১১ ও মানামী ছাড়াও অ্যাডভেঞ্চার-১, সুরভী-৮ ও পারাবত-১০ লঞ্চের কাউন্টারে কোনো টিকিট মিলছে না। তবে বরিশাল নদীবন্দরে গিয়ে নির্দিষ্ট দালালদের কাছ থেকে এসব লঞ্চের টিকিট পাঁচ গুণ বেশি দামে কিনতে পেরেও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন অনেক যাত্রী। কালোবাজার থেকে টিকিট কেনা যাত্রীরা জানান, ২২ থেকে ২৬ ডিসেম্বর শীতকালীন ও বড়দিনের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ২৭ ডিসেম্বর কর্মস্থলে ফিরতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশাল নদীবন্দরে কালোবাজারিদের কাছে ধরনা দিয়ে বেশি দামে টিকিট পেয়েও খুশি তারা। অনেকেই গতকাল শুক্র ও আজ শনিবারের টিকিট সংগ্রহ করেছেন কালোবাজার থেকে। কেননা পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌপথেই ফিরতে হবে তাদের। তীব্র শীতের মধ্যে লঞ্চের ডেকে নারী ও শিশুদের নিয়ে যাতায়াত সম্ভব নয়, তাই বাড়তি দামে বাধ্য হয়েই টিকিট সংগ্রহ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিসেম্বর মাস জুড়েই বিভিন্ন সরকারি ছুটির পাশাপাশি বছর শেষে সন্তানদের পরীক্ষা শেষে অনেকেই ছুটি কাটাতে বাড়িতে আসেন। তাই পুরো ডিসেম্বর জুড়েই টিকিটের ব্যাপক চাহিদা ছিল। এ সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ঢাকা-বরিশাল রুটে নৌপথ ও আকাশপথের যাত্রীদের জিম্মি করা হয়। জিম্মিদশা অব্যাহত থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলগামী ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্র ও শনিবারের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণেচ্ছু যাত্রীরা। সড়কপথে প্রায় ২০টি কোম্পানির বাস কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়লেও সেগুলোতেও যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। মিলছে না টিকিট।
ছুটিতে থাকা বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল নদীবন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার মোবাইল ফোনে ইত্তেফাককে জানান, যাত্রী চাপ বিবেচনায় এবং শনিবার একটি লঞ্চ রিজার্ভে ও অপরটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় কর্তৃপক্ষকে বাড়তি লঞ্চের তাগিদ দিয়েছি। তিনি বলেন, কোনো লঞ্চ রিজার্ভে থাকলে তার অনুকূলে একটি লঞ্চ সার্ভিসে রাখার বিধিবিধান রয়েছে। এ বিষয়ে লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন।
বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা সদর ঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, শুক্রবার সদর ঘাট থেকে আটটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে যাবার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিলাসবহুল কীর্তনখোলা-১০ ও পারাবত-১২ যেতে পারেনি। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাস জুড়ে যাত্রী চাপ বিবেচনায় নৌযান মালিকদের বাড়তি ট্রিপের জন্য তাগিদ দিলেও কেউ তাতে কর্ণপাত করেননি। বাড়তি নৌযান তো দূরের কথা যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের দিনে দুটি নৌযানের যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলেও তার পরিবর্তে কোনো লঞ্চ দেয়নি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।