ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বাতিলের দাবিতে গতকাল শুক্রবার দিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, প্রবল ঠান্ডা উপেক্ষা করে দিল্লি জামে মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করে কয়েক হাজার মানুষ। বিক্ষোভে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা অলকা লাম্বা এবং দিল্লির সাবেক বিধায়ক শোয়েব ইকবাল।
দিল্লি পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। পরিস্থিতি সামলাতে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ড্রোনের সাহায্যেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। গতকাল দলিত সংগঠন ভীম আর্মির প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদের মুক্তির দাবিতে কয়েকশ বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। জোরবাগেও আজাদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।
নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে। সেখানে শত শত লোক এই আইন বাতিলের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। অন্যদিকে আজাদ ময়দানের মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে আইনের পক্ষে সমাবেশ হয়। আজাদ ময়দানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক মানবাধিকার কর্মী বলেন, সিএএ, এআরসি এবং এনপিআর শুধু ধর্মীয় ইস্যু নয়। এর ফলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নোট বাতিলের মতো পরিস্থিতি আমরা আবারও চাই না। এক শিক্ষার্থী বলেন, এপিআর হচ্ছে এনআরসির প্রথম ধাপ। আমাদের বোকা বানানো হচ্ছে। আমাদের প্রতিবাদ থামবে না। অন্যদিকে অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানের সমাবেশে নেতৃত্ব দেন বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিস। পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়ন করতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গতকাল নৈহাটির এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যতদিন জীবিত আছি নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়িত হবে না। নাগরিকত্বের মতো অধিকার দেশের মানুষের কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
এদিকে সহিংসতার আশঙ্কায় উত্তর প্রদেশের ৭৫ জেলার মধ্যে ২১টিতে মোবাইলে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয়েছে আধাসামরিক বাহিনীও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ইন্টারনেট সেবা ফের চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।