[ ২১ এপ্রিল - ২০ মে ]
শাসক গ্রহ :শুক্র
শুভ সংখ্যা :৬
বৈশিষ্ট্য :মৃত্তিকা
রং :আকাশি, নেভি ব্লু, লাল, কমলা ও সাদা
শুভরত্ন :হীরা, পোখরাজ ও পান্না
ধাতু :তামা, ব্রোঞ্জ
শুভ দিন :শুক্রবার
সঙ্গী/সঙ্গিনী :মকর, কন্যা, কর্কট
বিখ্যাত ব্যক্তি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ওমর খৈয়াম, মানিক বন্দোপাধ্যায়, সত্যজিত্ রায়, ড. হুমায়ুন আজাদ, লেলিন, কার্ল মার্কস, জাহানারা ইমাম, ড. কুদরত-ই-খোদা, কলিম শরাফী, ফজলে হাসান আবেদ, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নিয়াজ মোর্শেদ।
জে নে নি ন আ প নি কে ম ন বৃ ষ
বৈশিষ্ট্য
প্রতীক :নির্মাতা বা উত্পাদক
মৃন্ময় বৈশিষ্ট্য :সদয় অধ্যবসায়ী, উদ্যমী দৃঢ়,
রীতিপরায়ণ সংগীত অনুরাগী।
ব্যক্তিত্ব :অধ্যবসায়ী আত্মকেন্দ্রিক, শৈল্পিক, সদয় বাস্তববাদী, বৈষয়িক, সতর্ক বিশ্বাসী, ধৈর্যশীল, একরোখা।
বৃষ জাতক-জাতিকাদের চোখের দৃষ্টি প্রশান্ত, নির্মল ও স্থির হয়। সে খুব মাধুর্যময়ভাবে পরিশ্রমবিমুখের মতো চলাফেরা করে। যদিও শক্তির ছটা তার চলন থেকেই বিচ্ছুরিত হয়। বৃষরা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি দারুণ আকৃষ্ট হয়। খুব অল্প কিছু বৃষই দুশ্চিন্তা করে আর বসে বসে আঙুলের নখ কাটে। আর চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে যখন অবস্থার মিল থাকে না, তখন সে হয়তো ঠোঁটটা উল্টিয়ে চিন্তা করবে, কিন্তু সে মোটেও অল্পতে বিচলিত ও মানসিকভাবে দুর্বল গোছের নয়। একজন গড়পরতা বৃষ বেশ স্বাস্থ্যবান ও শক্ত শারীরিক কাঠামোর অধিকারী হয়। তার অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়তে হলে যথেষ্ট কারণ থাকতে হবে। কিন্তু একবার বৃষ যদি বিছানায় পড়ে তো সেরে উঠতেও তার প্রচুর সময় লাগে। ঠান্ডা প্রায়শ তার গলা ফোলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর খাবারের প্রতি তার অতি আগ্রহ ও ভালোবাসা ওজনটাও বাড়িয়ে দেয়। খাবারের প্রতি তীব্র আগ্রহের কারণে বৃষকে পেটুক বলে আখ্যা দেওয়ার কোনো মানে নেই। বৃষ মনে করে, সে মোটেও জেদি নয়, সে হলো ধৈর্যশীল। বৃষ জাতক-জাতিকারা তাদের অবস্থান ও মতামতের ক্ষেত্রে আঠার মতো লেগে থাকে। বৃষরা পরিণত চিন্তাবুদ্ধি ও ধৈর্যশীলতার চমত্কার স্বাক্ষরও রাখতে সক্ষম। হিংসা বৃষের সবচেয়ে বড়ো দোষ। তারা নিজেরা সৃষ্টি করতে পারে, নিজেরা ভাঙতে পারে, নিজেরা বিশ্লেষণ করতে পারে। তাই তারা মেনে নিতে চায় না অন্যরাও বড়ো কিছু করুক। তারা চায়, সবাই তাদের ওপর নির্ভরশীল হোক। একগুঁয়েমি মনোভাব বৃষের একটা বড়ো বৈশিষ্ট্য। নিজের সাফল্যগুলো তাকে ভীষণভাবে অহংকারী করে তোলে এবং সে চায়, সেটার উন্নয়ন যেন কেবল তার হাতে হয়। অনেক বৃষই বছরের পর বছর মানসিক ও শারীরিক কোনো কষ্টকে নীরব ও অভিযোগহীনভাবে বহন করতে পারে। ঝামেলা ও কষ্ট যত বাড়তে থাকে, একজন বৃষ ততই যেন তার মধ্যে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বৃষদের রসিকতা জ্ঞানও উঁচু মাপের।
বৃষের কাছ থেকে তার অর্থ-সম্পদ খুব কমই আলাদা হতে দেখা যায়। কষ্টজনক হলেও সত্য যে বৃষরা টাকা-পয়সার পাশাপাশি ক্ষমতার প্রতিও বেশ আগ্রহী। এটা প্রয়োগের জন্য যতটা নয়, তার চেয়েও বেশি তার মনের স্বস্তির জন্য। টাকা-পয়সার পাশাপাশি তার যে ক্ষমতাও রয়েছে, এটা যখন সে বুঝতে পারে, শুধু তখনই সে নিরাপদ বোধ করে।
বি শে ষ জ্ঞে র চো খে কে ম ন যা বে আ প না র ২ ০ ২ ০
মৃত্তিকা রাশি বৃষের জাতক-জাতিকাদের জন্য বছরের শুরুটা খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা অথবা রোগ-ব্যাধির জন্য শরীর থেকে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা আছে। সতর্কতা অবলম্বন করুন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা-ভগ্নিদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে। কাজকর্মে তাদের সহযোগিতা আশা করতে পারেন। আর্থিক দিক মিশ্র সম্ভাবনাময়। একাধিক সূত্র থেকে অর্থাগমের সম্ভাবনা আছে। দাম্পত্য সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাবে না। স্বামী বা স্ত্রীর শরীর-স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বিগ্ন হতে পারেন। বছরের শুরু থেকেই এ ব্যাপারে সাবধান থাকার চেষ্টা করুন। মাতৃস্বাস্থ্য ভালো যাবে না। মায়ের কোনো দুরারোগ্য ব্যাধি দেখা দিতে পারে। সামগ্রিকভাবে আর্থিক দিক ভালো গেলেও কোনো রহস্যজনক কারণে সাময়িক সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। বছরের শেষ দিকে গোপন শত্রুতার সম্মুখীন হতে পারেন। আপনজনেরাও কেউ কেউ বৈরী আচরণ করতে পারে। প্রণয় ও রোমান্টিক বিষয়াদির জন্য বছরের শেষ দিক অনুকূল থাকবে। শত্রুরা ক্ষতি করার চেষ্টা করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। বিদেশ যাত্রার জন্য বছরের প্রথমার্ধ তুলনামূলকভাবে অনুকূল থাকতে পারে। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে চেষ্টা করুন। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অষ্টমে বৃহস্পতি অবস্থান করবে। এ সময় স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে অধিকতর সাবধান থাকার চেষ্টা করুন। এ বছর শনি অধিকাংশ সময়ই মকরে, তথা ভাগ্যস্থানে অবস্থান করবে। কিন্তু বছরের প্রথমার্ধে শনির সঙ্গে বৃহস্পতিও ভাগ্যস্থানে পেতে পারেন। কর্মপরিবেশ মোটামুটি অনুকূল থাকবে। তবে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করুন। অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয় পরিহার করার চেষ্টা করুন। অন্যান্য দিক ভালো যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।