[২৩ অক্টোবর - ২১ নভেম্বর]
শাসক গ্রহ :মঙ্গল
বৈশিষ্ট্য :পানি
শুভ সংখ্যা :৯
রং :নীল, ঘিয়ে, চকোলেট, সবুজ ও লাল
রত্ন :রক্ত প্রবাল, হলদে পোখরাজ ও ক্ষেত্রবিশেষে পান্না ও হীরা
ধাতু :লোহা ও ইস্পাত
শুভ দিন :মঙ্গলবার
সঙ্গী/সঙ্গিনী :কর্কট, মীন
বিখ্যাত ব্যক্তি
পাবলো পিকাসো, এজরা পাউন্ড, মাদাম কুরি, ইন্দিরা গান্ধী, ম্যারাডোনা, বাদশা ফাহাদ, কিরো, গাদ্দাফী, মীর মোশারফ হোসেন, সম্রাট আওরঙ্গজেব, শামসুর রাহমান, জামিলুর রেজা চৌধুরী, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, রুনা লায়লা, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর।
জে নে নি ন আ প নি কে ম ন বৃ শ্চি ক
বৈশিষ্ট্য
প্রতীক :গভর্নর বা পরিদর্শক
জলীয় বৈশিষ্ট্য :দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, উদ্যমী, আবেগ্রবণ, তীব্র বিচারশক্তি, স্বাধীন।
ব্যক্তিত্ব :আত্মনির্ভরশীল, চালাক, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, উত্তেজনাপ্রবণ, অক্লান্ত কর্মশক্তি, উদ্যমশীল, বিদ্রূপাত্মক, প্রতিহিংসাপরায়ণ, মনোযোগী, অভিজাত।
অধিকাংশ প্লুটো শাসিত বৃশ্চিক মানুষই শারীরিক দিক থেকে শক্ত-সমর্থ। তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষণীয়ভাবে দৃঢ়, তীক্ষ ও পরিষ্কার। তাদের নাক হয় খাড়া, কখনো কখনো টিয়ার ঠোঁটের মতো। সাধারণত তাদের গায়ের রং হয় মলিন, যেন প্রায় স্বচ্ছ এবং তাদের ভ্রূ মোটা। তা নাকের ওপরে এসে মিলিত হয়। বৃশ্চিকের উপস্থিতিতে আপনি মৃদু কোলাহল আর তীব্র গতিময় প্রাণশক্তির আভাস পাবেন, আর সেটাই আপনার কাছে তার পরিচয় তুলে ধরবে। সে যতই শান্ত থাকতে চাক না কেন, তার এই তীব্র প্রাণ উদ্দীপনাকে লুকিয়ে রাখতে পারে না।
ব্যক্তিত্বের ওপর বৃশ্চিকের প্রবল নিয়ন্ত্রণ দেখে অনেককেই ঈর্ষাকাতরতায় ভোগে। যত তীব্রভাবেই তাদের আবেগে নাড়া লাগুক না কেন, বৃশ্চিকদের শীতল ও ভাবলেশহীন মুখে সে ছাপ কমই দেখা যায়। এই মানুষগুলো স্বেচ্ছায় ও গৌরবের সঙ্গেই নিজেদের মুখে ভাবলেশহীনতা ফুটিয়ে তোলে। হঠাত্ করে লাফিয়ে ওঠা, হঠাত্ যাত্রা শুরু করা কিংবা ভীত আচরণ করা এসব তাদের মধ্যে দুর্লভ। বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যেমন সে কুণ্ঠিত হয়ে ওঠবে না, তেমনি অহংকার করার মতো পরিস্থিতিতে ফুলেও ওঠবে না। নিজের প্রতিক্রিয়াকে সে চরমভাবে দমিয়ে রাখে, কেননা বৃশ্চিক অন্যদের স্বভাব ও উদ্দেশ্যকেই বিরামহীনভাবে খুঁজতে থাকে এবং একই সঙ্গে নিজেকে অন্যের সম্ভাব্য অনুসন্ধানী চোখের দৃষ্টি থেকে মুক্ত রাখে। এ ব্যাপারে সে অত্যন্ত দক্ষ। বৃশ্চিকের স্পর্শ হতে পারে শীতল, কোমল আবার গরমও। এদের স্পর্শকাতর মনোভাব সবচেয়ে বড়ো দুর্বলতা। অতি সহজে তারা আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং পাল্টা আক্রমণ করে বসে। ফল হয় মারাত্মক।
রাশির অবস্থান তাকে কয়েকটি পথের থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। সে হয়তো রাত্রিচারী স্করপিওনের মতোই অন্যদের আঘাত করে এবং হয়তো সেই আঘাতের চরম তৃপ্তিটুকু উপভোগ করতে গিয়ে নিজের মৃত্যুই ডেকে আনে। কিংবা তার রাশির প্রতীক ইগলের মতোই সেও সমস্ত পার্থিব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে যায় এবং নিজের শক্তি ও সামর্থ্যকে বিচক্ষণ ও ন্যায়পরায়ণভাবে ব্যবহার করে। বৃশ্চিকদের স্বাস্থ্য তাদের স্বভাবের প্রতিফলন ঘটায়। নিজের স্বাস্থ্য সে কঠোর পরিশ্রম করে কিংবা বিষণ্নতায় ভুগে নষ্ট করে ফেলতে পারে। কিন্তু জটিল কোনো রোগ থেকেও শুধু ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সে সেরে ওঠতে সক্ষম।
বি শে ষ জ্ঞে র চো খে কে ম ন যা বে আ প না র ২ ০ ২ ০
বছরের শুরুতে রাশ্যাধিপতি মঙ্গল স্বক্ষেত্রে অবস্থান করছে এবং ধনপতি বৃহস্পতি রয়েছে ধনস্থানে। ধনস্থানে শনি ও কেতু থাকলেও রবি ও বুধের অবস্থানের ফলে বুধাদিত্ব যোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বৃশ্চিকের আর্থিক দিক ভালো যাবে বলে আশা করা যায়। নতুন বিনিয়োগ ফলপ্রসূ হতে পারে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। দশমে বৃহস্পতির দৃষ্টি রয়েছে ফলে কর্মোন্নতি হতে পারে। বেকারদের কর্মসংস্থান হতে পারে। পক্ষান্তরে কর্মস্থলে পদস্থ-প্রভাবশালীদের সঙ্গে মতবিরোধজনিত কারণে কোনো সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বছরের শুরুতে আর্থিক দিক ভালো গেলেও এপ্রিল থেকে জুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করুন। এ সময় বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বন করুন। ভ্রাতা-ভগ্নিদের সঙ্গে মতানৈক্য এড়িয়ে চলুন। অন্যথায় পারিবারিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। বছরের শেষদিকে যৌথ ও অংশীদারি ব্যবসায় সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। মাতৃস্বাস্থ্য খুব একটা ভালো যাবে না। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে ভালোভাবে যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নিন। নিজের শরীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। দুর্ঘটনাজনিত কারণে অথবা অস্ত্রোপচারের কারণে শরীর থেকে রক্তক্ষরণের আশঙ্কা আছে। এ বছর অবিবাহিতদের কারো কারো বিয়ে হতে পারে। অন্যান্য দিক ভালো থাকবে বলে আশা করা যায়।