ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা, ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সহযোগীদের ওপর হামলার বিচার ও প্রক্টরের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে গণপদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশ শেষে গণপদযাত্রা শুরু করেন ১২টি সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গণপদযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, আমাদের ওপর একের পর এক হামলা চালানো হয়েছে; কিন্তু আমরা কোনো হামলার বিচার পাইনি। তাই তাদের হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে চলেছে। এ সময় তিনি সাধারণ জনগণকে এই সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। পদযাত্রা শুরুর আগে বক্তারা বলেন, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস। এখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া যায় না। তাই যারা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ঠাঁই ঢাবিতে হবে না। সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতারা ভিপি নুরুল হকের ওপর হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
নুর ও রাশেদের বিরুদ্ধে ফের মামলা ঃ এদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আবারও মামলা করা হয়েছে নুর ও রাশেদ খানের বিরুদ্ধে। ধানমন্ডি থানায় এই মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অর্ণব হোড়। ধানমন্ডি থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে।’ মামলাটি ২৬ ডিসেম্বর নথিভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা মামলাটি তদন্ত করছি।’ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘হামলার দিন নুর ও রাশেদ ফেসবুক লাইভে এসে গুজব ছড়ায়। এছাড়া ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়েছে।’
তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদ ঃ এদিকে হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নুরের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছে। বেলা সোয়া ১১টায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা নুরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে যান। এ প্রসঙ্গে ভিপি নুর বলেন, ‘তারা ঐদিনের হামলার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।’ তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে নুর বলেন, ‘ঘটনা ঘটার পরে এরকম তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়; কিন্তু ব্যবস্থা নিতে আমরা দেখি না।’ এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা তদন্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। আজকে মেডিক্যালে তাদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
তিন আসামি কারাগারে ঃ হামলার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত তূর্য ও দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান শান্তকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে শনিবার শাহবাগ থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান সরদার তিন দিনের রিমান্ড শেষে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে এই আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে আদালতে হাজির করেন।