রাজনীতিতে যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে দরকার সুস্থ পরিবেশ

 ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোতে যুব প্রতিনিধিত্ব ঃ সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ বৈঠকে বক্তারা

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজনীতিতে যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এবং বৈশ্বিক উন্নয়নে যুব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নেই বললেই চলে। তবে দেশের রাজনীতিতে যুবদের সীমিত অংশগ্রহণের মূল কারণ হিসেবে দারিদ্র্য, স্বাক্ষরহীনতা, জেন্ডার বৈষম্যসহ, গণতন্ত্রের অভাবকেও দায়ী করা হয়। গতকাল শনিবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগ্রহণ কাঠামোতে যুব প্রতিনিধিত্ব ঃ সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ধ্রুবতারা ইউথ ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তমালিকা সুলতানা।

আলোচনায় রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নয়ন, মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠে আসে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী যুবদের মধ্য থেকে। দেখা গেছে, জেন্ডার সমতার ভিত্তিতে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তাদের মধ্যে। রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে যুবদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। দক্ষ যুব নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোতে দক্ষ যুব নেতৃত্ব গড়ে তুলতে বিনিয়োগ জরুরি বলেও জানান তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেজন্য দক্ষ ও যোগ্য রাজনীতিবিদ একটি দেশের জন্য অতি জরুরি। আমাদের দেশের যুবরা দেশের উন্নয়নে ও যে কোনো সংকট মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। রাজনীতিতে ও নেতৃত্বে দক্ষ যুবশক্তি সম্পৃক্তকরণ নিশ্চিত করতে পারলে তা দেশের উন্নয়নকে আরো বেশি গতিশীল ও টেকসই করে তুলবে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতেও যুবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।

অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, যুবদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সারা বিশ্বেই কম, বাংলাদেশে তা আরো কম। এর পেছনে রাজনৈতিক এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সসীমাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি তারুণ্যের প্রগতিশীলতাকে সঠিকপথে পরিচালিত করতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে সুস্থ ছাত্ররাজনীতি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাজনৈতিক চর্চায় সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত ও দুর্নীতির প্রবণতা দূর না করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। যুবদের মাদক থেকেও মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি। যুবদের দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল্ল­াহ আল কাফি রতন বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতি করে নেতৃত্বে প্রবেশের সুযোগ তরুণরা পাচ্ছে না। তাদের জন্য রাজনীতিতে প্রবেশের ক্ষেত্র সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।

সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু মূল্যবোধের দিক থেকে অবক্ষয় ঘটছে। তাই সবার আগে তরুণদের চিন্তা ও বিবেকের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে, সংস্কার আনতে হবে রাজনীতির মূল স্তরে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি বলেন, যুবদের সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রয়োজন সবার জন্য একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ-এর পরিচালক আসগর আলী সাবরি বলেন, গবেষণার মধ্য থেকে উঠে আসে যে পরিবার ও সমাজ থেকে ভীতি ও অনুত্সাহিত করার ফলে তরুণরা রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হয় না। বড়োদের থেকে ছোটোদের দিকে দায়িত্ব হস্তান্তরের চর্চাও জরুরি। জ্যেষ্ঠদের অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের উদ্যমের সম্মিলনেই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা দরকার।