পাঁচশ’ বছরের পুরোনো ছোট সোনা মসজিদ

কয়েকদিন আগে সময় পেয়ে ছুটে গেলাম ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদ। যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় অবস্থিত। প্রধান সড়ক থেকে ৫০/৬০ ফুট দূরেই অবস্থিত সোনা মসজিদ। যার বা-দিকে রয়েছে বিশাল আকারের একটি দীঘি। সঙ্গেই রয়েছে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের দোকান। প্রাচীরের সামনেই আদিকালের কিছু কবরেরও দেখা মেলে, যা তখনকার শাসকদের কবর বলে লোকমুখে শোনা যায়। মসজিদের ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে দুটি কবর। যার একটিতে শায়িত আছেন ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, অপরটিতে নাজমুল হক টুলু। উভয়ই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন। মসজিদের বাইরের অংশ লাল টেরাকোটা দিয়ে সাজানো। সূর্যের আলোতে তা সোনালি রঙয়ের মনে হয় বলে লোকমুখে তা সোনা মসজিদ নামে পরিচিত।

মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ৮২ ফুট,  প্রস্থে ৫২.৫ ফুট। বাইরে থেকে ৫টি গম্বুজ দেখা গেলেও এর মোট গম্বুজ ১৫টি। অভ্যন্তরে রয়েছে স্তম্ভ ৮টি। বড়-ছোট মিলিয়ে মেহরাব আছে ৫টি। মসজিদটির ডানপাশেই একটি সিঁড়ি রয়েছে, যা বেয়ে ওপরে ওঠা যায়। তার পাশেই রয়েছে তখনকার রাজাদের জন্য নির্ধারিত নামাজের স্থান। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, মসজিদের দেয়াল ৬ ফুট পুরু এবং এর উপাদানসমূহ হচ্ছে—পাথর, ইট, টেরাকোটা ও টাইল। জানা যায়, ৫০০ বছর পুরোনো এই সোনা মসজিদের নির্মাতা ওয়ালি মোহাম্মদ। তখন রাজা ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন (যার রাজত্ব ছিল ১৪৯৩ থেকে ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এই ওয়ালি মোহাম্মদ দুটি মসজিদ নির্মাণ করেন। একটি বর্তমানে ভারতে অবস্থিত, যার আয়তন এই সোনা মসজিদ থেকে কিছুটা বেশি হওয়ায় তখনকার মানুষের মুখে ছোট সোনা মসজিদ ও বড় সোনা মসজিদ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠে। তখন থেকেই এই মসজিদের নাম ছোট সোনা মসজিদ।

স্থানীয় লোকমুখে এটাও প্রচলিত আছে যে, জিনেরা এসে এই মসজিদটি রাতারাতি তৈরি করে ফেলে। অবশ্য অনেকে এটাকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন। জানা যায়, শীতের মৌসুম আর সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় কিছুটা বেশি থাকে এখানে। এক সময় মসজিদটি অযত্নে থাকলেও এখন যত্ন করা হয়। নামাজ পড়ানোর জন্য একজন ইমামও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আছে মোয়াজ্জিন আর খাদেমও। তবে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে ৫শ’ বছরের পুরোনো, প্রাচীন নিদর্শন ছোট সোনা মসজিদ হারিয়ে যাবে কালের গহবরে। থাকবে না আর কালের সাক্ষী হয়ে।