আমন ধানের ফলন অত্যন্ত কম হওয়ায় এবং দরপতনে খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকার কৃষক দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে সারাবছর কি খেয়ে বাঁচবেন এই দুশ্চিন্তায় এখন কৃষকের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৮ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফশী ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাত ৩ হাজার ৮৭৫ হেক্টর। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক প্রধান ফসল আমনের ওপর নির্ভরশীল।
সুতারখালী এলাকার কৃষক নিমাই রায় বলেন, তিনি এ মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে আমনের চাষ করেছেন। ফলন যা হয়েছে তাতে ধান কাটার খরচও উঠছে না। তাছাড়া চাষের খরচ তো আছে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতের পর ব্যাপকভাবে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এমন কি কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা দমন করা যায়নি। যে কারণে অধিকাংশ ধানখেত চিটে হয়ে গেছে। চুনকুড়ি এলাকার কৃষক জীবনানন্দ মন্ডল জানান, এবার আমন ধানের ফলন অত্যন্ত কম হয়েছে, তারপর আবার দামও অনেক কম। তিনি বলেন, গত বুধবার সাপ্তাহিক হাটের দিন প্রতি মণ ইরি ধান বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। আর মোটা ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। তিনি বলেন, একে তো ফলন অনেক খারাপ তারপর আবার বিঘা প্রতি যে ধান পেয়েছি তা এত কম মূল্যে বিক্রি করে ধার-দেনা ও ব্যাংকের লোন শোধ করব কিভাবে? এছাড়া সারাবছর পরিবার-পরিজন নিয়ে কি খেয়ে বাঁচব এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ কিভাবে যোগাব সে চিন্তায় এখন চোখে ঘুম আসছে না।
ধান ব্যবসায়ী মো. নূরনবী হোসেন বলেন, এলাকায় চাল বিক্রির ওপর ধানের দাম নির্ভর করে। তাছাড়া বাইরের বড়ো বড়ো ব্যবসায়ীরা না আসলে ধানের দাম বাড়ে না। ঐসব ব্যবসায়ীর গোডাউনে অনেক ধান মজুত রয়েছে বলে এবার এলাকায় আসছে না। যে কারণে ধানের দাম বাড়ছে না বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান জানান, এ বছর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে অধিকাংশ ধানখেত আক্রান্ত হয়ে ধানে চিটে হয়ে গেছে। যে কারণে ধানের ফলন কম হতে পারে। তবে সরকার পদক্ষেপ নিলে ধানের দাম বাড়তে পারে।