জৈন্তাপুরের লাল শাপলার বিলে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ

সিলেট জৈন্তাপুর উপজেলার শাপলার চারটি বিল এলাকায় অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে ডিবি বিল ও কেন্দ্রী বিলের বিপুল জমি প্রভাবশালীরা দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। বিলের লাল শাপলা ধ্বংস করে ও নালা সেচ দিয়ে মাছ শিকার করছে প্রভাবশালীরা। বিলগুলো রক্ষার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাসহ পরিবেশবাদীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রী ও ডিবি বিলের পশ্চিম অংশে লাল শাপলা ইতোমধ্যে উপড়ে ফেলে জমি দখল করে ধান লাগানো হচ্ছে। স্থানীয় কেন্দ্রী গ্রামের বাসিন্দা শৌলেন্দ্রের সঙ্গে আলাপকালে জানান, বিলের পানি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আমার দখলি জায়গায় এবার ধান লাগানো যাবে না। সে আরো জানায়, এই বাঁধ অপরিকল্পতভাবে নির্মাণ করায় নিচের জায়গাগুলো অন্যরা দখল করে শাপলা উত্তোলন করে ধান লাগাচ্ছে। জমি বন্দোবস্ত কিংবা লিজগ্রহণ করেছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, যারা ধান চাষ করছে তারা কেউই লিজ কিংবা বন্দোবস্ত নেয়নি।

জানা যায়, সদ্য বিদায়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌরীন করিম শাপলা বিল সুরক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। গঠিত কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমদ ও কোষাধ্যক্ষ ইমরান আহমদ জানান, আমরা নিজের খরচে লাল শাপলার বিলটির বিভিন্ন নালায় বাঁধ দিয়ে ভেতরে পানি আটকে রেখেছি। যেখানে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বিলের প্রায় ২ শতাধিক বিঘা জমি বেদখল হবে, সেইসঙ্গে শাপলা বিলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হবে। চারটি বিলের (কেন্দ্রী বিল, ডিবি বিল, হরফকাটা বিল এবং ইয়াম বিল) প্রকৃত এরিয়া যত দ্রুত সম্ভব ডিমারগেশন করে পরিপূর্ণ পর্যটন এরিয়া ঘোষণা করার দাবি জানাই আমরা।

এ বিষয়ে আহমদ আলী মেম্বারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নালার পানি ছাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি শুধু চৌকিদারের দায়িত্ব পালন করছি। আপনি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করেন জানতে পারবেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম কিম জানান, যদি ব্যক্তিস্বার্থের জন্য কেউ লাল শাপলা বিলের জায়গা অপদখলের চেষ্টা করে তাহলে এখনই তা রোধ করতে হবে। বর্তমানে ডিবির হাওর এলাকার চারটি বিলের প্রকৃত জায়গা দ্রুতসময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে পরিকল্পনামাফিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখার জোর দাবি জানাই। পাশাপাশি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—অবৈধ দখলদারমুক্ত করে শাপলা বিলকে রক্ষা করার। অন্যথায় বিলের জায়গা রক্ষায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি প্রদানসহ আন্দোলন করতে বাধ্য হব।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, শাপলা বিলে একটি অংশ দখল বা দখলের চেষ্টা কোনো মতে মেনে নেওয়া হবে না। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে ডিবির হাওরের চারটি বিলের প্রকৃত এরিয়া ডিমারগেশন করে পরিকল্পনামাফিক পর্যটন এরিয়া ঘোষণা করা হোক।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসি কান্ত হাজং বলেন, আমরা প্রশাসনের পক্ষ হতে নিষেধ করেছি। এখানে বাঁধ দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু এখনো বাঁধ দেওয়া হয়নি। আমি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছি।