রাজশাহীতে বিজ্ঞাপন দিয়ে ই-সিগারেটের রমরমা ব্যবসা চলছে। লোভনীয় অফারে ছোটো বড়ো দোকানের এসব বিজ্ঞাপন ভোক্তাদের আকৃষ্ট করছে। সাধারণ সিগারেটের বিকল্প হিসেবে ‘ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম’ বা ‘ইলেকট্রনিক সিগারেট’ ব্যবহার করা হয়। সিগারেটের মতোই দেখতে ফাইবার বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই ব্যাটারিচালিত যন্ত্রগুলোর মধ্যে একটি প্রকোষ্ঠ থাকে। তার মধ্যে ভরা থাকে বিশেষ ধরনের তরল মিশ্রণ। যন্ত্রটি গরম হয়ে ঐ তরলের বাষ্পীভবন ঘটায় এবং ব্যবহারকারী সেই বাষ্প টেনে নেয় ফুসফুসে, যা ধূমপানের অনুভূতি দেয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ, নিউমার্কেট, সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর ও সোনাদিঘির মোড়ের বেশ কিছু দোকানে ই-সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড়ো একটি অংশ এই নেশায় আসক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। আর ক্রেতা বাড়াতে রাজশাহীর বিভিন্ন দোকানে লাগানো হয়েছে বড়ো লম্বা রং বেরঙের ব্যানার। পুরো নগরীতেই ই-সিগারেটের ছড়াছড়ি। রয়েছে ক্রেতা আকৃষ্ট করার পোস্টারও।
ই-সিগারেট বিক্রিকারী এরফান পান স্টোরের মালিক মঞ্জুর রহমান জনি বলেন, আগের মতো আর চাহিদা নেই। বিজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি তারা নিজেরাই তৈরি করে লাগিয়েছেন, ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার জন্য। নিষিদ্ধ কিনা বিষয়টি তারা সেভাবে ভাবেননি। তবে এখন এটি সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করে সাহেববাজারের এক বিক্রেতা বলেন, এটি ঢাকা থেকে কিনে আনি। তবে এগুলো দোকান থেকে কেনার আগ্রহ কম থাকায় তারা বিক্রির আশায় অনলাইন ও দোকানে বিজ্ঞাপন দেয়। এগুলো বিক্রিতে বেশি লাভ, তাই এগুলোতে দিন দিন ব্যবসায়ীদের চাহিদাও বাড়ছে।
এক শিক্ষার্থী জানান, বাজারের একটি দোকানে ই-সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেখেই কিনে এই নেশার যাত্রা শুরু করেন। ই-সিগারেট সেবন করা দেখে তার অনেক বন্ধুই এখন এই নেশায় আসক্ত বলে জানান তিনি। তারা এখন নিজের পছন্দের ফ্লেভার বাছাই করে দোকান থেকে বা অনলাইনে অর্ডার দেন এবং সেগুলো সেবন করেন।
রাজশাহীর উন্নয়ন সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডির তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অ্যাডভোকেসি অফিসার শরিফুল ইসলাম শামীম বলেন, প্রশাসন উদ্যোগ নিলেই এটি বাজারে আসতে পারবে না। এছাড়াও আইনে ই-সিগারেট সম্পর্কিত ধারা সংযুক্ত করে বাংলাদেশে দ্রুত এটি নিষিদ্ধ করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, বাংলাদেশের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনে ‘ই-সিগারেট’ বিষয়ে কিছু বলা নেই। তাই কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারছি না। তবে এটি সরকারের দৃষ্টিতে আনার জন্য সংযোজিত করা হবে। এছাড়া আইনটি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।