‘১৯৫১ সালে এই স্কুলে ভর্তি হয়েছি—তখন আমার বয়স ছিল ৯ বছর। এখান থেকে ১৯৫৮ সালে মেট্রিক পাশ করেছি। এরপর শিক্ষাজীবন শেষ করে এই স্কুলে শিক্ষকতাও করেছি। কিন্তু ৬১ বছর পরে এই বিদ্যালয়ে এসে এখন মনে হচ্ছে আমি যেনো সেই ১৯৫১ সালের সেই শৈশবেই ফিরে গেছি। মনে হচ্ছে এখনো আমি সেই ৬৮ বছর আগের সেই ছাত্রী।’ কথাগুলো বয়সের ভারে ন্যুব্জ ওয়াসিরা বেগমের। শনিবার দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন তিনি। বিদ্যালয়ের ১৫০ বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে গত শনিবার আয়োজন করা হয়েছিল পুরাতন ছাত্রীদের এক মিলনমেলার।
শুধুমাত্রা ওয়াসিরা বেগমই নন, বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লেও কৈশোরের প্রাণের সঞ্চরে মেতে উঠেন অনেকেই। দীর্ঘদিন পর তাদের সহপাঠীদের কাছে পেয়ে অন্যরকম আমেজে মেতে ওঠেন ঐ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রীরা। পুরাতন বান্ধবীদের দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে পেয়ে বয়সের কথা ভুলে নেচে-গেয়ে কৈশোর জীবনে ফিরে যান তারা।
এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম (এমপি)। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ আরা। সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (গার্লস হাইস্কুল) এর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে স্কুল প্রাঙ্গণে এ মিলনমেলা বসে। এ সময় গার্লস হাইস্কুল এক্স স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রেবেকা আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শচিন চাকমা, দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লায়লা হাসিনা বানু, ১৫০ বছর পূর্তি উত্সব কমিটির আহবায়ক জিনাত আরা চৌধুরী মিলি।