বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দারুণ ছন্দে আছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ছাড়াই ছয়টি জয় পেয়ে গেছে চট্টগ্রাম। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে তাকে পাচ্ছে না দলটি। এমনকি ঢাকায় চলমান টুর্নামেন্টের তৃতীয় পর্ব এবং সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য চতুর্থ পর্বেও মাহমুদউল্লাহকে পাবে না চট্টগ্রাম। ৮ জানুয়ারি আবার ঢাকায় বিপিএলের শেষ পর্বে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে পেতে পারে দলটি।
মাহমুদউল্লাহর ইনজুরি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছে বিসিবিও। পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগে তাকে মাঠে নামার অনুমতি দিবে না বিসিবি। চট্টগ্রাম চাইলেও আগে নামাতে পারবে না মাহমুদউল্লাহকে। বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগের সবুজ সংকেত পেলেই খেলবেন তিনি। বিসিবির সতর্কতার কারণ আগামী মাসের পাকিস্তান সফর। যেখানে তিনটি টি-২০ খেলার কথা বাংলাদেশ দলের। আর এই সফরে টি-২০ অধিনায়ককে পুরোপুরি ফিট পেতে চায় বিসিবি।
ভারত সফরে ইডেন টেস্টে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন মাহমুদউল্লাহ। একই কারণে বিপিএলের শুরুতে দুটি ম্যাচ খেলেননি তিনি। ফিটনেস টেস্ট দিয়ে গত ১৪ ডিসেম্বর রংপুরের বিপক্ষে খেলতে নামেন তিনি। দুই ম্যাচ খেলেই আবার চোটে পড়েন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। চট্টগ্রাম পর্বে ১৮ ডিসেম্বর শেষ ম্যাচ খেলেন তিনি।
তবে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পর মাহমুদউল্লাহর পায়ের স্ক্যান করা হয়েছে। বড়ো কিছুই পায়নি বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। তারপরও বিশ্রামে রাখা হয়েছে তাকে। আজ থেকে রিহ্যাবের কাজ শুরু করবেন ৩৩ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার। জগিং থেকে ধীরে ধীরে ব্যাটিং, বোলিং করবেন তিনি।
গতকাল বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের ঐ ম্যাচ শেষে আমরা ওর স্ক্যান করিয়েছি। কিন্তু কিছুই পাইনি। ও সিলেট পর্ব খেলতে পারবে কী না সেটা বলা যাচ্ছে না। কেননা সামনে যেহেতু পাকিস্তান সিরিজ আমরা ওটাই গুরুত্ব দিচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে না উঠছে, আমরা অনুমতি দিতে পারি না।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ওকে পাওয়ার তাড়া থাকবে এটা স্বাভাবিক। তবে তাদের তাড়া থাকলেই তো আর হবে না। আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি পাকিস্তান সিরিজকে। আগামীকাল (আজ) থেকে ও জগিং শুরু করবে। এরপর আস্তে আস্তে ব্যাটিং-বোলিং শুরু করবে। অতএব বুঝতেই পারছেন বিষয়টি সময় সাপেক্ষ। তবে ও যদি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করে যে খেলবে সেটা ওর সিদ্ধান্ত।’
চট্টগ্রাম শিবিরও অবগত যে, সহসা মাহমুদউল্লাহকে পাওয়া যাচ্ছে না। দল জয়ের ধারায় থাকায় এই ক্রিকেটারের অভাবও খুব বেশি অনুভূত হচ্ছে না চট্টগ্রামের। ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম।
গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে দলটির কোচ পল নিক্সন মাহমুদউল্লাহকে পাওয়া নিয়ে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সে পরবর্তী ম্যাচ খেলবে না। তার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি চিন্তার কারণ। এটা বারবার ফিরে আসে। তার জন্য এটা পরীক্ষার সময়। সে ইনজুরি নিয়ে খেলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনি সবসময় কিছু ইনজুরি নিয়েই খেলেন। তার শরীরের ওপর চাপ গেছে, পাঁচ দিনের মধ্যে চারটা ম্যাচ খেলেছে, এটা মনে রাখতে হবে। আন্তর্জাতিকে এখন অনেক খেলা, এটাকে আমাদের সম্মান করতে হবে। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি এবং সে ৬ বা ৭ জানুয়ারি ফিরতে পারে।’