দেশি-বিদেশি দারুণ সব ক্রিকেটার নিয়ে দুর্দান্ত একটি দল রংপুর রেঞ্জার্স। কোচিং স্টাফের বহরেও থাকা নামগুলো নেহায়েত খারাপ নয়। বাংলাদেশ জাতীয় দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট শ্রী চন্দ্রশেখরনও আছেন রংপুরের তাঁবুতে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের পয়েন্ট তালিকায় অবশ্য দলটির সামর্থ্যের প্রমাণ নেই। মাঠের ক্রিকেটে আশার খবর নেই, মাঠের বাইরেও কর্তাব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে রংপুর শিবিরে বইছে অস্বস্তির হাওয়া। অগোছালো সংসারকে সঠিক কক্ষপথে আনতে চেষ্টা করছে দলটি।
গতকাল বিসিবি একাডেমি মাঠে এসেই ক্রিকেটারদের নিয়ে গোল হয়ে বসে কথা বলেন কোচ মার্ক ও’ডনেল। দলের টেকনিক্যাল উপদেষ্টা হাবিবুল বাশার সুমনকে দেখা গেল আলাদা করে কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে বসে কথা বলেছেন। ৬ ম্যাচে মাত্র একটি জয়, বিপিএলে রংপুরের অস্তাচলের যাত্রা দেখছেন অনেকে।
রংপুরের চেয়ে বাজে অবস্থায় সিলেট থান্ডার। খাদের কিনারে পড়ে আছে ৭ ম্যাচে একটি জয় পাওয়া সিলেট। পয়েন্ট তালিকার লেজে অবস্থান দুই দলের। মিরপুর স্টেডিয়ামে আজ দিনের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হবে সিলেট-রংপুর। সিলেটের জন্য মূলত টিকে থাকার লড়াই। আজ হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ছিটকে পড়বে সিলেট। হোম ভেন্যু সিলেটে যাওয়ার আগেই প্লে-অফের দৌড় থেকে বাদ পড়তে পারে দলটি। বিপিএলের সিলেট পর্ব শুরু হবে ২ জানুয়ারি।
দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দুই দলের সামনে আজ জয়ের বিকল্প নেই। জয়ের জন্য মুখিয়ে থাকবে দুই দল। সমীকরণটা দুই দলের কাছেই স্পষ্ট। গতকাল অনুশীলনের আগে রংপুরের তাসকিন আহমেদও বলেছেন, সেরা চারে খেলতে হলে বাকি সব ম্যাচে জিততে হবে রংপুরকে।
রংপুরের প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে ডানহাতি এই পেসার বলেছেন, ‘টপ ফোরে খেলতে হলে আমাদের সব ম্যাচই জিততে হবে। পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের সব ঢেকে দিয়ে, আক্রমণাত্মক খেলতে হবে। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে ওয়াটসন আছে এখন তাকেও আমরা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি জুনিয়র যারা আছি। সেও আমাদের ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে উত্সাহ দিচ্ছে। আসলে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব ভালো খেলতে।’
পেস আক্রমণে মুস্তাফিজ, তাসকিন, জুনায়েদ খান, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ আছেন। একাদশের বাইরে আছেন তাসকিন-জুনায়েদরা। মোহাম্মদ নবী, মোহাম্মদ শাহজাদরাও ফর্মে নেই। ঘুরে দাঁড়াতে হলে সম্মিলিত পারফরম্যান্স দরকার রংপুরের। এদিকে কম্বিনেশন ঠিক করতে পারছে না সিলেটও। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের নেতৃত্বে দলগতভাবে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ সিলেট। ছন্দ খুঁজে বেড়াচ্ছে দলটি। শনিবার সন্ধ্যায় দলের পেসার এবাদত হোসেন বলেছিলেন,‘টি-টোয়েন্টিতে ছন্দটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আসলে ছন্দটা ধরতে পারছি না। কিছু কিছু ছোটো ভুলের কারণে আমরা জেতা থেকে দূরে আছি।’
তারপরও আশা হারাচ্ছেন না এবাদত। ডানহাতি এই পেসারের আশা, দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে সিলেট। এবাদত বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এগুলো ঠিক হয়ে যাবে। এখনো পাঁচটি ম্যাচ আছে। যেহেতু ঢাকায় একটি ম্যাচ আছে, সিলেটে তিনটি ম্যাচ আছে। সিলেটে আমাদের দর্শক থাকবে। ঢাকায় পরবর্তী ম্যাচটি যদি আমরা জিততে পারি, তাহলে সিলেটে ভালো দর্শক থাকবে।’
তাই নিজেদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বলেই মনে করেন এবাদত। অবশিষ্ট সব ম্যাচই জিততে চায় সিলেট। এবাদত বলেছেন, ‘আমাদের প্ল্যানিংটা থাকবে পাঁচটা ম্যাচই যদি জিততে পারি। জেতাটাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’