রাঙ্গামাটির সড়কগুলো বেহাল!

ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

এ কে এম মকছুদ আহমেদ, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

২০১৭ সালের পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে খানাখন্দ ঠিক হয়নি এখনো। রাস্তাঘাট ঠিক না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সড়কগুলো মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অবিরাম বর্ষণের ফলে রাঙ্গামাটি জেলার চট্টগ্রাম সড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়।

২০১৭ সালের ১৩ জুন ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসে প্রায় ৬০ স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কসহ সাতটি সড়কের ১৪৫টি স্থানে পাহাড় ধসে যায় এবং চারটি স্থানে রাস্তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া ১১৩টি স্থানে রাস্তার অংশ ভেঙে যাওয়ার ফলে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।

বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মুলক সড়ক ও রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের কার্পেটিং কাজ করা হলেও রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শালবাগানের ভেঙেপড়া সড়কের পাশে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগ যৌথ উদ্যোগে পাহাড় ঘেঁষে ছোটো ও মাঝারি যানবাহন চলাচলের জন্য মাটি ভরাট করে সড়ক তৈরি করে দিলে যাতায়াত সুবিধা হয়। পরে এ সড়কের পাশেই বেইলি ব্রিজের সিদ্ধান্ত নেয় সড়ক বিভাগ।

চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মঈন উদ্দিন সেলিম জানান, রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়ক বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙনের ফলে আমাদের খুবই সতর্কভাবে যানবাহন চালাতে হয়। তিনি বলেন, বর্তমান সময় হচ্ছে সড়কের কাজ করার জন্য উপযুক্ত কিন্তু সড়ক বিভাগে এই সময়ে কাজ না করে বর্ষা মৌসুমে কাজ করে, যা অল্প দিনে নষ্ট হয়ে যায়।

রাঙ্গামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে পৌরসভার অংশে অনেক স্থানে ভাঙন আছে। দীর্ঘ তিন বছর হয়ে গেলো এগুলো এখনো সংস্কার করা হলো না। সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন চলাচলে খুবই ব্যাঘাত ঘটছে। এই অবস্থায় আমরাও কোন এই কাজ করতে পারি না। যদি আমরা কাজ করতে পারতাম তাহলে হয়তো কোন ব্যবস্থা নিতাম। এখন জানিনা কবে নাগাদ তাদের ফান্ড আসবে, তারা করবে। আশা করি সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্রুত এই সড়ক গুলো মেরামত করে দেবে।

রাঙ্গামাটি সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উত্পল সামন্ত জানান, ২০১৭ সালের পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকার তাত্ক্ষণিকভাবে কিছু মেরামতের কাজ করে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত করে। তার পরবর্তীতে সড়ক মেরামতের জন্য আমরা ২৪৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাঠিয়েছি; কিন্তু দীর্ঘদিনের জটিলতার কারণে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটি পাশ হতে কিছুদিন সময় লেগেছে। সম্প্রতি প্রকল্পটি মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় করেছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যেতে পারব। মূলত আমরা রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়ক ও রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশের ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী কাজ করতে সক্ষম হব। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে রাঙ্গামাটির ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোও মেরামত সম্ভব হবে।